Published : 22 Jul 2026, 11:12 PM
গোপালগঞ্জে একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আইনজীবীদের অভিযোগ, আদালতের বিচারক মো. সুজন মিয়া এই আঘাতটি ঘটিয়েছেন। আহত সাবিহা সুলতানাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে বিচারকের আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এজলাসের চলাকালীন সময়ে কিছু আইনজীবীর আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সুজন মিয়া অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রথমে টেবিলে আঘাত করে নীরব থাকার ইঙ্গিত দেন। পরিস্থিতি না বদলাতেই তিনি টেবিলের ওপর রাখা একটি কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন, যা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথার ডান পাশে আঘাত করে। আইনজীবীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাঁকে সার্জারি ইউনিটে রাখা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিহা সুলতানা জানান, আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন তিনি শান্তভাবে নথিপত্র দেখছিলেন, হঠাৎ একটি বস্তু এসে তাঁর মাথায় আঘাত করে এবং রক্তপাত শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, রাতে তাঁর কপালে সেলাই লাগেনি, তবে এখনও মাথায় তীব্র ব্যথা বিদ্যমান।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই অপ্রত্যাশিত। ঘটনার পর তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিচারককে বিচারিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই, এই ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে। তাই আইনজীবীরা আপাতত আদালতের কার্যক্রম অন্য বিচারকের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন, যা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেনে নিয়েছেন। এম এ আলম সেলিম আরও জানান, এই বিতর্কিত ঘটনা প্রসঙ্গে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজ বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করবেন।।
নৈতিক পতন ও বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের আবেদন