Published : 23 Jul 2026, 02:17 AM
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি উচ্চ নিরাপত্তা কারাগারের বিশেষ অংশকে ঘিরে কুমির রাখার জন্য পরিখা খননের কাজ চলছে। এই কারাগারের এই নির্দিষ্ট অংশে মূলত হামাস সদস্যদের আটক রাখা হয় বলে জানা গেছে। বুধবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ এই তথ্য প্রকাশ করে। খবর অনুযায়ী, কেতজিওত কারাগারের চারপাশে প্রায় একশো সত্তর মিটার দীর্ঘ এই পরিখাগুলো খনন করা হচ্ছে, যা কারাগারের একটি বিশেষ উইংকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিখাগুলো বাইরে থেকে দৃশ্যমান হবে না। কারাগারটি ইসরায়েলের রামাত নেগেভ রিজিওনাল কাউন্সিলে অবস্থিত। স্থানীয় এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে এই পরিখাগুলো কারাগারের অভ্যন্তরে একটি নির্দিষ্ট অংশকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, কুমির রাখার বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তবে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে।
এই পরিখা নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে। এর আগে, গত সপ্তাহে পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী ইদিত সিলমান তার মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও নীল নদের কুমিরকে 'গৃহপালিত বন্য প্রাণী' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের পরই পরিখা খননের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর দাবি করেছে যে সিলমানের এই সিদ্ধান্তই এই প্রকল্পের পথ সুগম করেছে। তারা আরও দাবি করে যে, কেতজিওতের কারাগারের একটি বিশেষ উইংয়ে 'কুমির কারাগার প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ' আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। জানা গেছে, কুমিরদের পরিচর্যা, তদারকি এবং আবাসনের জন্য ইসরায়েলি কারাগার কর্তৃপক্ষ একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি কারারক্ষীদের কুমির সামলানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রকল্পের জন্য একুশ মিলিয়ন শেকেল (৬.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে যে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে তারা হামাসের সামরিক শাখার নুখবা ইউনিটের সদস্য সন্দেহে শত শত ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিশেষ আদালতে বিচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
পূর্বে বেন-গভির কেতজিওতের বিশেষ উইংয়ের ভিডিও প্রকাশ করে বন্দিদের উপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দিদের উইং থেকে বের হতে না দেওয়া, কম্বল ও পর্যাপ্ত খাবার থেকে বঞ্চিত করা এবং লোহার পাতের ওপর ঘুমাতে বাধ্য করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারটি ইসরায়েলের বৃহত্তম কারাগার। এখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য একটি পৃথক অংশ রয়েছে, যাদের দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক রাখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বন্দি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৫ হাজার ২৫০, যা বর্তমানে ৯ হাজার ৬০০ এরও বেশি হয়েছে।।
আদালতে বিচার চলাকালীন বিচারকের উন্মত্ত কাণ্ডে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মাথায় পেপারওয়েট আঘাত