Published : 23 Jul 2026, 04:14 PM
বর্তমানে চুক্তিতে থাকা এক উচ্চপদস্থ আমলা পরবর্তী রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে এই আমলাকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতির আসনে বসানো হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার পেছনে রয়েছে গভীর সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন। মূল বিতর্কটি হলো, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি যদি এই জ্যেষ্ঠ আমলাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে, তবে তিনি কি নির্বাচনের জন্য আইনত যোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তর সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আইনি ব্যাখ্যায় নিহিত। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্দিষ্ট করা আছে। এই অনুচ্ছেদের ৪(খ) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন।
এখানে প্রশ্ন ওঠে, ওই আমলা কি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? আরপিও-র ১২(এইচ) ধারা অনুযায়ী এর উত্তর হলো 'না'। এই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে অবসরের পর যদি কেউ চুক্তিতে নিয়োজিত থাকেন, তবে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বা বাতিল হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট আমলা বর্তমানে চুক্তিতে দায়িত্বরত আছেন। এমনকি তিনি আজ পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ করলেও, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাকে আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। আরপিও-র ১২(এফ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর সময় পার না হলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনের যোগ্য হন না। ফলস্বরূপ, প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের পছন্দের তালিকায় থাকলেও চুক্তিকালীন নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তাকে তিন বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কে হতে পারেন? গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এই জল্পনার মাঝে কি কোনো অপ্রত্যাশিত মোড় অপেক্ষা করছে? ২০০২ সালে অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতির পদে বেছে নেওয়ার সময় তৎকালীন বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল এক বড় চমক। একইভাবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার বড় নেতাদের বাদ দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করে অনেকের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল।।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ