Published : 29 Jul 2026, 06:28 AM
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের সামুদ্রিক অবরোধের কারণে জাহাজ চলাচলের পথে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি তেলের পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে এশীয় বাজারকে লক্ষ্য করে সৌদি আরব বিকল্প রুটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধি প্রতি ব্যারেল সর্বোচ্চ পাঁচ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অজ্ঞাতনামা সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে একটি জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকো লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেলের প্রবাহ মিসরের আইন সুখরা বন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন মেটাতে এই কৌশল অবলম্বন করছে। এরপর সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইনের মাধ্যমে এই অপরিশোধিত তেল সিদি কেরির বন্দরে পৌঁছায়, যেখান থেকে তা এশিয়ার দিকে পাঠানো হয়।
এই প্রক্রিয়ায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ায় পৌঁছাতে গিয়ে যাত্রার সময় অনেক বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সূত্রমতে, এই পথ পরিবর্তনের ফলে প্রতি চালানে অতিরিক্ত এক কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ধীর হওয়ায় কিছু মালিক তাদের ট্যাঙ্কারগুলোকে সুয়েজ খালের দিকে ঘুরিয়ে লোহিত সাগরের উত্তর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই বিকল্প পথে এশিয়ায় পৌঁছাতে বাব এল-মান্দেব দিয়ে সরাসরি যাওয়ার চেয়ে প্রায় এক মাস বেশি সময় লাগছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুসারে, ইতিমধ্যেই একটি সৌদি ট্যাঙ্কার এই দীর্ঘ পথটি বেছে নিয়েছে। জাহাজ চলাচলের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দর থেকে আংশিক সৌদি তেল বোঝাই করা সুপারট্যাঙ্কার 'অলিম্পিক লাক' গত রবিবার দিনের শেষে সুয়েজ খাল পার হয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
অন্যান্য অনেক ট্যাঙ্কারেরও যাত্রাপথ পরিবর্তন করে সুয়েজের দিকে ফিরে আসছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের পরিবহন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের যুদ্ধের কারণে এক দিক বন্ধ রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের তেলের প্রধান বিকল্প রুটেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের বিরতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় শান্তি আলোচনার আশার আলো দেখা যাচ্ছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।।
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে অগ্নিসংযোগ ও হামলা: সারজিস আলমসহ একাধিক ব্যক্তি আহত