Published : 29 Jul 2026, 11:27 AM
মহাবিশ্বের বিশাল অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য বিস্ময়কর দৃশ্য প্রায়শই পৃথিবীর শক্তিশালী যন্ত্রপাতির দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়। বিশেষত উজ্জ্বল তারাদের আবরণে ঢাকা থাকা আবছা নক্ষত্রগুলো খুঁজে বের করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানরত চারটি নতুন শ্বেত বামন বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন। এতদিন লাল বামন বা ‘রেড ডোয়ার্ফ’ নক্ষত্রগুলোর তীব্র আলোর কারণে এই নক্ষত্রগুলোর অস্তিত্ব ধরা কঠিন ছিল বলে মনে করা হতো। অক্সফোর্ড একাডেমিতে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আবিষ্কৃত এই নক্ষত্রগুলো জি ২০৩–৪৭, জিজে ২০৭.১, এলএইচএস ১৮১৭ এবং উলফ ১১৩০ নামের চারটি দ্বৈত বা বাইনারি স্টার সিস্টেমে অবস্থান করছে। প্রতিটি সিস্টেমে একটি করে শ্বেত বামন তার সঙ্গী লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।
হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ইমেজিং স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা অতিবেগুনি রশ্মির আলোর সাহায্যে এই শ্বেত বামনগুলোর আলো আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ, এই শ্বেত বামনগুলো তাদের সঙ্গীদের তুলনায় অনেক বেশি অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই চারটি নক্ষত্রের তাপমাত্রা ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৩০০ কেলভিন। এদের তুলনামূলকভাবে শীতল প্রকৃতির কারণে সাধারণ পদ্ধতিতে এদের শনাক্ত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। কেবল দৃশ্যমান আলো বা আলোর পরিমাপের ভিত্তিতে পরীক্ষা করলে মনে হতে পারে তাদের তাপমাত্রা ৫ থেকে ৮ শতাংশ বেশি। আবিষ্কৃত নক্ষত্রগুলোর মধ্যে জি ২০৩–৪৭ পৃথিবী থেকে মাত্র ৭ দশমিক ৬ পারসেক দূরে অবস্থিত।
দুই দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই অঞ্চলে শ্বেত বামন নক্ষত্রের অস্তিত্বের সন্দেহ করলেও এবারই প্রথম এর প্রমাণ পাওয়া গেল। এটি আমাদের সৌরজগতের নিকটতম শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলোর মধ্যে নবম স্থানে স্থান করে নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, এই মহাকাশের আরও অনেক স্থানে এমন শ্বেত বামন নক্ষত্র লুকিয়ে থাকতে পারে। আশপাশের লাল বামন নক্ষত্রগুলোতেও পরীক্ষা চালালে আরও ৯ থেকে ১০টি নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।।
বিখ্যাত সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বিদায়: কিসমত খন্দকারের আত্মার শান্তি কামনা