Published : 29 Jul 2026, 05:16 PM
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে যে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছিল, সেই সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি তাঁকে গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন লতিফ সিদ্দিকী। আদালতে তাঁর উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে লতিফ সিদ্দিকী জানান, তাঁকে জানানো হয়েছে যে শাপলা চত্বরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি আজ আদালতে না আসতেন, তাহলে মনে হতো তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। যেহেতু তিনি সাধারণত নিজেকে লুকিয়ে রাখেন না, তাই তিনি সব সময় প্রকাশ্যে আসেন এবং এই কারণেই আজ আদালতে এসেছেন। এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে সাবেক মন্ত্রী বলেন, 'আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম।
কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সেই সময়ের কোনো বিষয় সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।' সাংবাদিকরা যখন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চান, তখন লতিফ সিদ্দিকী মন্তব্য করেন যে তিনি এই বিষয়ে কোনো মতামত দিতে রাজি নন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আসামিরা হাজিরা দেন। যদিও তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে। গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মঞ্চ-৭১ প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে কিছু লোক লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, এবং পরে পুলিশ তাদের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় গত বছরের নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী এবং পরবর্তীতে তিনি কারামুক্ত হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁকে মন্ত্রী পদে নিযুক্ত করা হয়। হজ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ২০১৪ সালে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় এবং তিনি বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে তাঁর সংসদ সদস্যের পদও বিলুপ্ত হয়ে যায়।।
বিখ্যাত সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বিদায়: কিসমত খন্দকারের আত্মার শান্তি কামনা