Published : 29 Jul 2026, 10:30 PM
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য এখন আর্থিক স্বস্তি এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহকরা এখন চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। এতদিন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য অর্থ তোলার সুযোগ থাকলেও, এখন থেকে পরিবার, স্বামী-স্ত্রী বা সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রেও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সম্মিলিত ব্যাংকে যাদের এক বছরের বেশি সময় ধরে আমানত রয়েছে, তারা এখন দুই বছর পর তাদের সম্পূর্ণ আমানত একবারে তুলে নিতে পারবেন। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এই পাঁচটি ব্যাংক হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ঘোষিত স্কিমে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।
এই সংশোধিত স্কিমে চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়। সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক সময় গ্রাহকদের চিকিৎসার বাইরেও জরুরি অর্থের প্রয়োজন হয়, কিন্তু পূর্বের নিয়মাবলীতে এমন সুযোগ ছিল না। এই সংশোধিত স্কিমে সেই প্রয়োজনীয়তা যোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং বাকি চারটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের অধীনে জামানত ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ হওয়ায় ব্যাংকগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এই নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।
বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে এবং আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমানতকারীদের দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেছে যেখানে অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে। এই তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৮ লক্ষ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লক্ষ ৫০ হাজার গ্রাহককে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাস শেষে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে জামানতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪.৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭.৪৩ শতাংশ।।
বিখ্যাত সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বিদায়: কিসমত খন্দকারের আত্মার শান্তি কামনা