Published : 02 Aug 2026, 11:16 AM
২০১৯ সালে একটি অদ্ভুত গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল—কোথাও লবণ আর পাওয়া যাবে না, অথবা তা অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হবে। এই গুজবের উৎস বা বিস্তার কার ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে যে কেউ এই ধরনের কথায় বিশ্বাস করে, তাদের বুদ্ধিমত্তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এক নিছক গুজবে গোটা দেশ তোলপাড় শুরু করে দেয়। ফেসবুক জুড়ে একের পর এক পোস্ট, মানুষের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আমি দেখলাম এক চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব কীভাবে প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন—যেভাবে সম্ভব, লবণ কিনে নিজেদের কাছে জমিয়ে রাখা। কারণ, যদি তা না করা যেত, তবে পরে লবণ জোগাড় করা কঠিন হতো। এই ঘটনা আমাকে ভাবাল। আমার বাবা-মাও নিশ্চয়ই এই খবর দেখছেন। তারা কি নিজের ঘর থেকে বেরিয়েছেন? আমি মাকে ফোন করি, তিনি জানান, লাইনে আছি, পরে কথা হবে।
লাইনে কী করা? কাল থেকে লবণ থাকবে না, আজই কিনে রাখা হলো। 'আমি একটি পরিকল্পনা করেছি'—এই বার্তাটি আমাকে আরও হতাশ করে। আমার পরিবার যে পরিমাণ লবণ তিন গুণ দামে কিনে রেখেছিল, তা ২০২৬ সাল পর্যন্তও শেষ করতে পারেনি। এই অস্থিরতার মাঝে মনে পড়ল দাঁত মাজার পেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে লবণের গুজবটা যেন আরও গভীর অর্থ বহন করে। এলাকার হোটেল থেকে নষ্ট তেলভাজা খাবার এবং প্লাস্টিকের এককালীন চা-এর পাত্রে, বন্ধু সেদিন বলল, 'আমরা কী খেয়ে বাঁচব? এমনকি পেস্টেও প্লাস্টিক মেশানো আছে!' আমি মৃদু স্বরে প্রতিবাদ করি, পেস্ট তো খাবারের জন্য নয়! কিন্তু বন্ধু গম্ভীর মুখে বোঝায়, দাঁত মাজার সময় সবাই পেস্ট ব্যবহার করে। কেউ স্বীকার করে না, কেউ করে না। এই সামান্য টেনশনে আমি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ি। বন্ধুর কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও উদ্বেগজনক।
বেঁচে থাকার জন্য এখন আর কোনো আপস নয়। এই পরিস্থিতিতে দুই বন্ধু মিলে নিমের দাঁতন কিনে ফিরলাম। আমরা খোলা জিনিস কিনব না, এমন বোকা আমরা নই। ভালো দোকান থেকে কিনেছি, এবং দাঁত মাজার সেই প্যাকেটগুলোও প্লাস্টিকের বাক্সে মোড়ানো ছিল। এদিকে বৈশ্বিক তথ্য বলছে: প্লাস্টিকের বোতলের পানিতে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। আর টুথপেস্টে ঢাকার গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। এই সামাজিক গুজব এবং পরিবেশগত দূষণের এই দ্বিমুখী চিত্র আমাদের সামনে এক কঠিন সত্য তুলে ধরে।।
হাসিনার সাংবাদিক সংলাপে ভারতের কোনো ভূমিকা নেই: জয়সওয়ালের দাবি