Published : 06 Aug 2026, 07:16 AM
বর্ষা ঋতু ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে এক বিশেষ স্মৃতি। এই বর্ষার মধ্যেই তিনি পৃথিবীর মায়াবী জগৎ থেকে পরলোকে যাত্রা করেন, যেখানে তাঁর প্রতিভা চিরভাস্বর। আজ বৃহস্পতিবার ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনেই কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক নিবাসে তাঁর জীবনাবসান ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথ মাত্র আট বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্র ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত—কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণ কাহিনি, চিঠিপত্র এবং শিশুসাহিত্য। এই সকল সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন স্বর্ণোজ্জ্বল আলো দান করেছেন।
গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করে তিনি বিশ্বসাহিত্যের মঞ্চে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। সুর ও গানে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য; তিনি নিজেই ছিলেন সুরস্রষ্টা ও গীত রচয়িতা। শুধু সাহিত্য নয়, চিত্রকলাতেও তাঁর প্রতিভা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। শিক্ষাবিস্তার এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজেও রবীন্দ্রনাথ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কৃষক ও পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি কৃষিঋণ ব্যবস্থা চালু করেন এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে নতুন শিক্ষার পথ দেখান। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নাইটহুড খেতাব ত্যাগের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীর কাছে স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছে দেন। কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জোড়াসাঁকোর বাড়িতে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখে তাঁর জন্ম।
সেই পরিবেশ শৈশবেই তাঁর মনকে মুক্ত করেছিল। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় নৌকায় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি প্রকৃতির নিসর্গ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাঁর সাহিত্যে এক অসাধারণ প্রভাব ফেলেছিল। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান সাহস ও প্রেরণার উৎস ছিল। তাঁর গানই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। সব মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অবিস্মরণীয় প্রতীক হয়ে বাঙালির হৃদয়ে চিরভাস্বর।।
জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অবিচল: সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলামের অটল অবস্থান