Published : 07 Aug 2026, 01:16 PM
নিজ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে 'খাই খাই' মানসিকতা বিদ্যমান, তা বন্ধ করার জন্য ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লেখেন, 'ঝালকাঠির বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের সকল নেতা-কর্মীদের এই শোষণমূলক জীবনধারা থেকে মুক্তি চাই। ছয় মাসের মধ্যে অনেক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুগ্রহে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তাদের পক্ষে ওকালতি করেছেন, তাদের সম্পত্তি পাহারা দিয়েছেন এবং ঠিকাদারি কাজ দেখভাল করেছেন। শেষ পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দলে যোগদানের সুযোগও পেয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে, এই দলটাই আপনাদের খেয়ে ফেলবে।' তিনি আরও বলেন, 'লজ্জা থাকা উচিত। যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনারা এত সুযোগ পেয়েছেন, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট সামান্য দোয়া-মোনাজাতও করতে পারেননি।
কেবল ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় থাকলে দ্রুতই দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।' এই পোস্টের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। দলের কিছু অংশের ধারণা, কীর্তিপাশার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ দেখভাল করছেন বিএনপির পদধারী যুবদল ও অন্যান্য নেতারা। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ নেতাদের বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক কাজের তত্ত্বাবধান করছে বিএনপির পদধারী সদস্যরা। এছাড়াও, ঝালকাঠির আদালতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। রফিকুল ইসলাম জামাল এই বিষয়গুলো নিয়েও ক্ষুব্ধ।
সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের পাঠানো ৪১৭টি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িকভাবে স্থগিত করার অভিযোগ ওঠে, যেখানে দাবি করা হয় সংসদ সদস্যদের সমন্বয় না করে প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) পাঠিয়ে প্রকল্পগুলো বাতিলের দাবি জানান। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের পূর্ব থেকেই মতবিরোধ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, 'নেতা-কর্মীদের নৈতিক অবক্ষয় এবং দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতে আমি কিছুটা কষ্ট নিয়ে এই মন্তব্য করেছি। আশা করি নেতা-কর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।'।
নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা: কাঁচামরিচ কিছুটা কমল, তবুও ক্রেতাদের মুখে হাসি নেই