Published : 07 Aug 2026, 05:16 PM
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আন্দোলন এখন আর কেবল তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্মিলিত দাবি ও সংগ্রাম। এই সময়ে তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চেয়েছেন। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের একাদশ মহাসমাবেশে এই বক্তব্য প্রদান করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, "গত তিন দশক আগে আমি ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর বেদনার রূপ দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজ সেই আন্দোলন এখন সারা দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি। এটি আর শুধু আমার আন্দোলন নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের আন্দোলন।" নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন অনুরোধ করেন, "আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ।
আপনাদের সকলের আন্তরিক প্রার্থনা কামনা করি, যেন মহান আল্লাহ্ তাআলা আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি প্রদান করেন।" তিনি দেশের সকল স্তরের মানুষকে আহ্বান জানান, সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক যেন এই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শামিল হন। অন্যদিকে, ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু তথ্যও সামনে এসেছে। তিনি যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে গত সোমবার দেশে ফিরেছেন। ব্রেন টিউমারের কারণে গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল সেখানকার হাসপাতাল এবং ইমা ইসলামের বাসভবনে। গত বছর আগস্ট মাসে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। যদিও চিকিৎসকরা টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমারটি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে এটি ব্রেন ক্যানসারজনিত সমস্যা ছিল। অস্ত্রোপচারের পর ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা শুরু হয়, যেখানে প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি এবং দ্বিতীয় ধাপে ওরাল থেরাপি দেওয়া হয়। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, এই অভিনেতাকে মোট ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ৬০টিরও বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি আরও তিন মাসের দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এই তিনটি ধাপ মিলিয়ে মোট শখানেক কেমোথেরাপি সম্পন্ন করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিয়ে হাসিনার মন্তব্য ভারতের সমর্থন করে না: রণধীর জয়সওয়াল