Published : 08 Aug 2026, 02:16 PM
ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা খুব শীঘ্রই একটি চুক্তির আশা করছেন। অন্যদিকে, এই চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য তেহরান এখন তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা দ্রুত একটি চুক্তির প্রত্যাশা করছি। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দূর করার লক্ষ্যে একবার চুক্তি ঘোষণা করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।" তবে মার্কিন ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে দেন যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবে সম্পূর্ণভাবে 'কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক' এবং তা ইরানের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে তার ওপর নির্ভরশীল। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ইরানি জ্বালানি স্থাপনায় সামরিক হামলার নির্দেশ প্রত্যাহার করার পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চলেছেন।
সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ওমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই অস্থায়ী চুক্তির বিষয়ে ইরান তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদন চাইছে। একজন মধ্যস্থতাকারীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে 'এমএস নাউ' (সাবেক এমএসএনবিসি) জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর থেকে অবরুদ্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো প্রকার টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে ওয়াশিংটন কেবল তখনই এই চুক্তিতে সমর্থন দেবে যদি এতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা 'বাধা' (যেমন পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা) অন্তর্ভুক্ত না থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে প্রণালীর প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ ওমানের হাতে থাকবে। তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-ও যুক্ত হতে পারে।
এছাড়াও, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলো এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে এই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে খবর আসছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি ৬০ দিনের অস্থায়ী চুক্তির রূপ নিতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা এবং গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এর আগে গত জুনেও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়।।
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের অবিরাম প্রচেষ্টা: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা