Published : 08 Aug 2026, 09:16 PM
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের প্রশ্নে কয়েক দিন ধরে তীব্র আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে এক নতুন নাম—নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লিসে ক্লাভেনেস। ৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এবং তিনি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত হচ্ছেন। মজার বিষয় হলো, পেশায় আইনজীবী ক্লাভেনেস নিজেই একসময় ফুটবলার ছিলেন এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২২ সালে তিনি নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এর পরের বছরই নরওয়ে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের বিরোধিতা করে। নরওয়ের সাংবাদিক মিনা ফিনস্তেদ বার্গের মতে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে যে বিতর্ক এখন বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে, তার সূত্রপাত ঘটেছিল ক্লাভেনেসের উত্থানের মাধ্যমেই।
এছাড়াও, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অর্থ সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। চলতি বছরে অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক, বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন আপত্তি তুলেছে। এই তিনটি বিষয়ই ফিফার এথিকস কমিটির সামনে পেশ করা হয়েছে। বহু বছর বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য না পাওয়া নরওয়ে এবার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ক্লাভেনেসের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। যদিও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি এবং এটিকে ব্যক্তিগত ক্ষমতার লড়াই হিসেবেও দেখতে চান না। অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক ফিফাপ্রধান সেপ ব্লাটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে ফিফার নেতৃত্বে এখন একজন নারীর সময় এসেছে। ইউরোপের বাইরে, বিশেষ করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় ক্লাভেনেসকে অতি-উদারপন্থী হিসেবে দেখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ইউরোপীয় সংস্থা ইউইএফএ-তেও তিনি হেরে যান।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে তিনিই একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী। তবে ক্লাভেনেস যদি আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামেন, তবে এই ক্ষমতার লড়াই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, এর আগে সাবেক গোলরক্ষক এরিক থর্স্তভেট প্রশ্ন তুলেছেন, ইউরোপে জেতার চেয়ে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থন পাওয়া কতটা সম্ভব।।