Published : 09 Aug 2026, 09:16 AM
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যেই ধসে পড়ছে এবং সরাসরি মাটির বাঁধকে আঘাত করছে। শুধু রাস্তা নয়, এই ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় চারশোটি পরিবার। এই দৃশ্য আমাদের গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারি প্রকল্পের ব্যর্থতা এবং উপকূলীয় সুরক্ষা পরিকল্পনার মারাত্মক ত্রুটি এই ঘটনা সামনে এনেছে। এই দ্বীপের পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক অন্তত সাত কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত। পূর্ব দিকে আরও পাঁচ কিলোমিটার নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকা বিস্তৃত। বিগত দশকে পাউবো ও নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল কেবল এই বাঁধ ও সড়ক মেরামতের জন্য।
কিন্তু সেই মেরামতের ইতিহাস আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২০ সালে প্রায় তিনশো কোটি টাকা ব্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের পরেও জোয়ারের পানি নিয়মিত প্রবেশ করত। এরপর ২০২২ সালে প্রায় একশো পনেরো কোটি টাকা খরচ করে তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ওপর সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়, যা এখন নিজেই ঝুঁকির মুখে। সংস্কার ও মেরামতের মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যে এমন অকার্যকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন ওঠে, পর্যাপ্ত মাঠ গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়াই কি এত বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল? জলবায়ু পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তবে এই অঞ্চলে কোনো প্রকল্প পরিকল্পনা করার সময় পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো আমলে নেওয়া অপরিহার্য। কেবল বাঁধের ক্ষতি নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে। উচ্চ জোয়ারের লোনাপানি বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে ঢুকে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত করছে, ফসলের ক্ষতি করছে এবং ভিটেমাটি হারানোর ভয় স্থানীয়দের মনে বাসা বেঁধেছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ইতিমধ্যেই এই অঞ্চল ছেড়ে চলে গেছেন।
এই অঞ্চলের বাসিন্দারা এমনিতেই প্রান্তিক; তাদের মধ্যে যারা আরও পিছিয়ে পড়া, তাদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই মুহূর্তে কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সড়ক ও বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। যদিও কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ শুরু হবে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সাগর শান্ত হলে স্থায়ী সংস্কার শুরু করা হবে, আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে স্থায়ী সংস্কারও যে দ্রুত ধসে পড়ে, তার উদাহরণ এই প্রকল্পে দুবার দেখা গেছে। তাই স্থায়ী সমাধানের আগে অত্যাধুনিক প্রকৌশলগত ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো বিবেচনা করা জরুরি। কাজ শুরুর পূর্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ সংস্থা দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করাও অত্যন্ত প্রয়োজন।।
জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অবিচল: সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলামের অটল অবস্থান