Published : 09 Aug 2026, 01:16 PM
টেলিভিশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এই স্ক্রিন টাইম শরীরের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নতুন এক গবেষণা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীরা জানতে চেয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখলে কি মানুষের মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা এবং ভাষা সংক্রান্ত সক্ষমতা হ্রাস পায়? একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সীদের মধ্যে যারা নিয়মিত বেশি টিভি দেখেন, তাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। এই ছোট অংশগুলো ঠিক সেই স্থান, যা চিন্তা ও ভাষাগত দক্ষতার সঙ্গে জড়িত। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে আলঝেইমার্স এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা একটি সাময়িকীতে। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অধীনে। প্রায় ১,৭০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এই পরীক্ষায় অংশ নেন, যাদের বয়স ৪৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে ছিল এবং গড় বয়স ছিল ৫৩ বছর। গবেষকরা তাদের টেলিভিশন দেখার অভ্যাস এবং মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করেন।
ফলাফল অনুযায়ী, যারা খুব ঘন ঘন টিভি দেখতেন, তাদের মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে কম দেখা গেছে। এই হ্রাসপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলো কেবল চিন্তাভাবনা ও ভাষার ক্ষেত্রেই নয়, আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা অংশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কিত। এছাড়াও, গবেষণায় এমন কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে যা ভবিষ্যতে রক্তনালীর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ডিমেনশিয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ব্যায়াম করলেই সব ঝুঁকি দূর হয় না। অর্থাৎ, যদি কেউ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় টিভি দেখার পাশাপাশি শারীরিক কার্যকলাপও বজায় রাখেন, তবুও মস্তিষ্কের অবনতির আশঙ্কা থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনোদনের জন্য টিভি দেখা বা সিনেমা দেখা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে সাহায্য করে। তবে মূল বিষয়টি হলো—কতক্ষণ দেখা হচ্ছে।
যদি অতিরিক্ত টিভি দেখা ব্যায়াম, পড়াশোনা বা সামাজিক যোগাযোগের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, অফিসে বসে কাজ করার ক্ষেত্রে টিভির মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। এর কারণ হলো, অফিসের কাজে ই-মেইল আদান-প্রদান এবং সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য মস্তিষ্ক অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। এই সক্রিয়তা ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে গবেষকরা নিশ্চিত নন যে শুধুমাত্র দীর্ঘ সময় টিভি দেখার কারণেই মস্তিষ্কের কিছু অংশের আকার কমে যায়; বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ওজন, ধূমপান বা অন্যান্য জীবনযাত্রার বিষয়গুলোও এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।।
প্রাথমিক শিক্ষায় হাতে-কলমে শিক্ষার নতুন দিগন্ত: কারিকুলামে আসছে 'সায়েন্স টয়'