Published : 10 Aug 2026, 03:17 AM
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেস 'হত্যার চক্রান্ত' বলে আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে যে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন এবং তারা 'জনরোষের' শিকার হয়েছেন। ঘটনার দিন, রোববার দুপুরের দিকে হালিশহরের বীজপুর এলাকায় পুলিশি হেফাজতে থাকা এক দলীয় কর্মীর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এই আক্রমণ ঘটে। হামলাকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরের লক্ষ্য করে ইট-পাথর, জুতা এবং কাদা নিক্ষেপ করে। এই সময় বিক্ষোভকারীরা 'জয় শ্রীরাম' ও 'চোর চোর' স্লোগান দিতে থাকে। এই হামলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমার ওপর বিজেপির সন্ত্রাস চলছে। বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে। তারা আমাকে ভয় পায় বলেই আটকানোর চেষ্টা চলছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'হামলাটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে কাচ খোলা থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই মারাও যেতে পারতাম।
' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উন্মত্ত জনতা গাড়িটিকে ঘিরে ধরলে সহযোগীরা তাঁকে গাড়ির কাচ তোলার অনুরোধ জানায়। এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি কোনো চোর-ডাকাত নই, আমি গাড়ির কাচ তুলব না। ওরা মারলে মারুক।' তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন। মমতার সফরসঙ্গী সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে হত্যার চক্রান্ত বলে অভিহিত করে জানান, তাঁরা বিচারের দাবিতে আদালতে যাবেন। ওই গাড়িতে তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেনও উপস্থিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, আগে থেকে পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি। যদিও পুলিশ বিজেপিকে সুরক্ষা দিচ্ছে বলে দাবি করলেও তিনি জানান, পুলিশের ওপর তাঁর রাগ নেই, কারণ বাহিনীটিকে নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে, ওই অঞ্চলের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা মমতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে এসেছিলেন, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্ষোভ থাকলেও বিজেপি এই হামলাকে দলীয় আক্রমণ মানতে নারাজ। এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের রহস্যজনক মৃত্যু। তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর রোববার সকালে পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, থানায় বেধড়ক মারধরের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে মাঠপর্যায়ে নেমে আসা এবং হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা আগামী সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।।
ইলিয়াস আলীর গুমের রহস্য: উইং কমান্ডার সাইফের নামে জারি হলো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা