Published : 11 Aug 2026, 12:16 PM
গত মাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস কর্তৃক গোপনে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্প এবং এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি থাকার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের কার্টে করে একটি সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেন। ফেরার পথে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি বিমান ব্যবহার করার কথা জানিয়েছিলেন এবং ক্যামেরার সামনে তাকে ওই বিমানে চড়তে দেখা গেলেও তা ছিল এক ধরনের ছদ্মবেশ। ট্রাম্পকে খাবার বহন করার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কার্ট থেকে বিমানটির নিচ দিয়ে বের করে আনা হয়, এবং এরপর তাকে অন্য একটি গাড়িতে করে আরও একটি সামরিক ফ্লাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই তৃতীয় বিমানটিই গোপনে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টও এর আগে এই গোপন অভিযানের খবর প্রকাশ করেছিল।
তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে বহনকারী তৃতীয় বিমানটি ছিল সি-৩২এ, যা বোয়িং ৭৫৭-এর একটি সামরিক সংস্করণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। প্রতিরক্ষা দপ্তরও এই বিষয়ে প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনকালে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, 'সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট যেমনটি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় (বিভ্রান্তি তৈরি ও ভুল পথে চালনা করার কৌশল) ব্যবহার করি।' এই গোপন স্থানান্তরের ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন। এর ফলে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদেরও বিভ্রান্ত করে।
সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল যে ট্রাম্প যে বিমানটিতে উঠছিলেন, সেই বিমানটিই তিনি তুরস্ক ছাড়বেন। কিন্তু এই বিমানটি আসলে ছিল একটি 'বিভ্রান্তিকর' ব্যবস্থা। তবে এই হুমকিটি নির্দিষ্ট কোনো বিমানের বিরুদ্ধে ছিল না। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস আগে জানিয়েছিল যে, ট্রাম্প যে বিমানগুলিতে ভ্রমণ করতেন, সেগুলি সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারত। ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পরদিন সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে চেউং বলেন, 'নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান। প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।' ।
বিদেশি বিনিয়োগের পথে সরকার প্রস্তুত: সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী