Published : 12 Aug 2026, 11:16 PM
আকাশপ্রেমীদের জন্য এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক প্রদর্শনী অপেক্ষা করছে। উত্তর আমেরিকায় ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক সূর্যগ্রহণের পর এবার বিশ্বের আরও একটি অংশ সাক্ষী হতে চলেছে এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের। ইউরোপ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং আমেরিকার কিছু অংশে যখন চাঁদের ছায়া সূর্যের আলো ঢেকে দেবে, তখন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এই বিরল দৃশ্য দেখা সম্ভব হচ্ছে না। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয়েছে এবং প্রায় ২৬৪ মিনিট ধরে চলবে। গ্রহণটি শুরু হয় রাশিয়া ও উত্তর মেরুর কাছ থেকে যাত্রা করে স্থানীয় সময় বিকেল চারটার পর গ্রিনল্যান্ডের উপকূল ঘেঁষে এগিয়ে চলে। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিজাভি এই পূর্ণগ্রাস প্রত্যক্ষ করবে।
১৯৫৪ সালের পর এটিই প্রথম এবং ২১৯৬ সালের আগে শেষবারের মতো আইসল্যান্ডবাসী সরাসরি সূর্যগ্রহণের অভিজ্ঞতা লাভ করছে। গ্রহণের সমাপ্তি ঘটবে স্পেনের উত্তরাঞ্চল, পর্তুগালের কিছু অংশ এবং বিখ্যাত বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের ঠিক আগে। যদিও পূর্ণগ্রাসের সময় সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী হবে, তবুও পৃথিবীর বিশাল অংশ আংশিক গ্রহণের সাক্ষী থাকবে। যুক্তরাজ্য ও আইল্যান্ডের আকাশে সূর্যের ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়বে। কানাডার অধিকাংশ এলাকা, আলাস্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। যখন চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো রাতের গোধূলির মতো শীতল হয়ে আসে।
তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পায়। বিজ্ঞানীদের কাছে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র আলোর কারণে এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু পূর্ণগ্রাসের সংক্ষিপ্ত মুহূর্তে এই করোনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য সূর্যের গঠন ও রহস্য উন্মোচনের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। যদিও বাংলাদেশ সরাসরি এই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে না, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই দেশের মানুষ উপভোগ করতে পারবেন এই অসাধারণ মহাজাগতিক দৃশ্য। মোবাইল ফোনে ক্রোম ব্রাউজার বা গুগল অ্যাপে 'সূর্যগ্রহণ' লিখে অনুসন্ধান করলে এই বিশেষ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে। সূত্র: নিউসায়েন্টিস্ট।
বিদ্যুৎ সংকটের মুখে দোকান-বাজারের নতুন সময়সূচি: রাত ৮টায় বন্ধের নির্দেশ