Published : 14 Aug 2026, 03:16 AM
কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের পানিহাটির সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওডিশা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। নতুন মামলায় পুলিশ অভিযোগ তুলেছে যে, এই ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হবে এবং পরবর্তীতে তাঁকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হতে পারে। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে ওই নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পর তাঁর দেহ দ্রুত পানিহাটি শ্মশানে সৎকার করা হয়।
এই দ্রুত সৎকারের প্রক্রিয়া নিয়ে থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্মল ঘোষ এবং তৃণমূলের আরও দুই নেতা নিহত চিকিৎসকের বাবা-মায়ের শেষবারের মতো দেখা না করেই জোরপূর্বক দেহ দাহের ব্যবস্থা করেন। পরিবারের আপত্তি এবং দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবির মধ্যেও মরদেহকে 'ভিআইপি মর্যাদা' দিয়ে দ্রুত দাহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলি মে মাসে আদালতে দাখিল করা হয়। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই তালিকায় নির্মল ঘোষ ছাড়াও পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামে আরও দুজন অভিযুক্ত রয়েছেন।
গত রোববার আরজি করের ওই নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর দুই বছর পূর্তির দিন পানিহাটির এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন যে, কেন পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও দ্রুত মরদেহ সৎকার করা হয়েছিল এবং কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াই তা সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, কীভাবে এত দ্রুত দেহ দাহ করা হলো এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল কি না। এই তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার দিন রাতে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শ্মশানে মরদেহ দাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুরো মরদেহ সৎকার প্রক্রিয়াটি এখন পুলিশের আওতাভুক্ত।।