Published : 14 Aug 2026, 06:17 PM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের ফলে ৯ জন শ্রমিকের প্রাণহানি এবং আরও ছয়জনের গুরুতর আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিরাপত্তা ও নিয়মপালনের দিক থেকে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এই তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এই সময়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন। দুর্ঘটনাটিকে এক 'বিপর্যয়' আখ্যা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখানে কোনো পক্ষ বা বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই; সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য উদঘাটন করা।' শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশনের মানদণ্ড মেনে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলির গ্রেডিং ও সনদ প্রদান করা হয়। এই নিয়মাবলী সঠিকভাবে পালিত হয়েছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তার বিষয়ে তিনি অবহিত করেন যে বাংলাদেশ শিপ ব ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারের প্রতি ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে বিষাক্ত গ্যাসের নির্গমন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে সেনাবাহিনী একটি দল কাজ করছে। এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি জাহাজ কাটার কাজের সময় হঠাৎ ট্যাঙ্কার থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে ৯ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মারা যান এবং আরও ছয়জন গুরুতর আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছেন, জাহাজের ট্যাঙ্কারে জমে থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের লিক (নির্গমন) থেকেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে গ্যাসের সঠিক প্রকৃতি ও দুর্ঘটনার আসল কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রীর হাসপাতালে পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চেম্বার পরিচালক এস এম সাইফুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।।
চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে জাহাজের সংঘর্ষে ইঞ্জিন রুমে ফাটল