Published : 16 Aug 2026, 08:16 PM
যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় তেহরান সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থন রয়েছে বলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) গোপনে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির প্রধান গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই খবরটি তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, তেহরান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। যদিও মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল যে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আইআরজিসি এই আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই সংশয় দূর করার জন্য গত মে মাসে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের তৎকালীন পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরেভান বারজানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যার আইআরজিসির সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গ্যাবার্ড বারজানির মাধ্যমে আইআরজিসির প্রধান জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদির প্রকৃত অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় কয়েক দিনের মধ্যেই বারজানি জেনারেল ওয়াহিদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়। ফোনালাপে জেনারেল ওয়াহিদি স্পষ্ট করে দেন যে, আইআরজিসি তেহরানের প্রতিনিধি দলের প্রতি আস্থা রাখে এবং তিনি বলেন, 'আমি তাদের (আরাগচি ও গালিবাফ) পূর্ণ সমর্থন করছি, আর এটিই আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক অবস্থান। আমরা এই সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে বেশি আগ্রহী।
' ওয়াহিদির এই ইতিবাচক বার্তা দ্রুত হোয়াইট হাউসে পৌঁছে যায়। এর ফলস্বরূপ ট্রাম্প প্রশাসন নেচিরেভান বারজানির মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরাকের দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজন করতে, কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। তেহরান সরকারের প্রধান উদ্বেগ ছিল যে কুর্দিস্তানে ইসরায়েলের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং সেখানে তাদের প্রতিনিধিরা ইসরায়েলি হামলার শিকার হতে পারেন। এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, সমঝোতা প্রক্রিয়া পুনরায় সচল করার জন্য কুর্দি প্রেসিডেন্ট নেচিরেভান বারজানি সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কাছে নতুন করে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।।
উত্তরা ফাইন্যান্সের শীর্ষ পদে তছনছ: চেয়ারম্যান ও চার পরিচালকের পদত্যাগ, আর্থিক জালিয়াতির কালো ছায়া