Published : 19 Aug 2026, 04:17 AM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক বিবাহ অনুষ্ঠানে খাদ্য এবং আর্থিক দাবির তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বরপক্ষের দাবি, কনেপক্ষের পক্ষ থেকে 'আস্ত খাসি' না দেওয়ায় তারা বিয়ে বাতিল করে চলে যান। কিন্তু এর পাল্টা জবাবে বরপক্ষ অভিযোগ করে যে, পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়েও দশ গুণ বেশি অর্থ দাবি করা হয়েছে। এই চরম বিরোধের জেরে বর মো. জুনায়েদ তার পরিবারকে বাধ্য হয়ে বিয়ের আসর থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতলা গ্রামে। জুনায়েদ জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র এই ঘটনা। জানা যায়, ওই দিন শফিক মিয়ার মেয়ের সাথে জুনায়েদের বিয়ের দিন ধার্য ছিল।
দুপুরে বর ও তার সঙ্গীরা যখন কনেপক্ষের বাড়িতে পৌঁছান, তখন বরযাত্রীদের জন্য বিশেষ খাবারের থালায় 'আস্ত খাসি' না দেওয়ায় বর আপত্তি জানান। এরপরই কনেপক্ষের সঙ্গে তীব্র তর্কাতর্কি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বরপক্ষ সেই আসর থেকে চলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বর জুনায়েদ মিয়া তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, 'বিয়ে উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে নির্ধারিত কাবিনের চেয়ে দশ গুণ বেশি অর্থ দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার যখন তা দিতে অস্বীকার করি এবং কথা কাটাকাটি শুরু হয়, তখন তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়।' তিনি আরও জানান, রাতে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে তাকে জবাই করে ফেলা হবে। তবে কনের বাবা শফিক মিয়া এই অতিরিক্ত দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, 'খাসির বিষয়ে আপত্তি তোলার পর আত্মীয়-স্বজনরা জুনায়েদকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে তার আচরণ এবং আমার মেয়ের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' এই প্রসঙ্গে ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া মন্তব্য করেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ছেলেটি খাবার নিয়ে খারাপ ব্যবহার করেছে, যার ফলে মেয়ে পক্ষের বাবা বিয়ে দিতে অস্বীকার করেছেন।' ।