Published : 20 Aug 2026, 08:17 AM
ভারতের এক দীর্ঘ আইনি লড়াই অবশেষে শেষ হলো। মাত্র ২০ রুপির ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই সরকারি কর্মচারীকে ৩০ বছর পর সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় দুই কর্মীকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দিয়েছে। বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া ও বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকরের বেঞ্চ অভিযুক্ত ক্লার্ক এবং পিয়ন উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, ঘুষ চাওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ না থাকা পর্যন্ত কেবল ২০ রুপির উদ্ধারের ভিত্তিতে কারো শাস্তি রাখা যায় না। ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। শিক্ষাগত সুবিধার জন্য আনন্দ জেলার বেচারি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এক শিক্ষার্থী ইনকাম সার্টিফিকেটের জন্য যান।
সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, সার্টিফিকেট প্রদানের বিনিময়ে ক্লার্ক তার নিজের জন্য ১০০ রুপির এবং পিয়নের জন্য ২০ রুপির ঘুষ চেয়েছিল। এই অভিযোগ নিয়ে শিক্ষার্থী দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে (এসিবি)-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এসিবি তদন্ত শুরু করে এবং চিহ্নিত ১২০ রুপির নোটের বিষয়টি সামনে আসে। মামলার সময় সুপ্রিম কোর্ট একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীর বক্তব্য ভিন্ন ছিল; তিনি দাবি করেছিলেন অভিযুক্তরা প্রথমে ২০০ রুপির জন্য চেয়েছিল এবং পরে ১২০ রুপিতে সমঝোতা হয়। বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এই তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি। এছাড়াও, এসিবি কর্তৃক ছাত্রকে দেওয়া নির্দেশ সত্ত্বেও, যেখানে ঘুষ চাইলে পুরো ১২০ রুপির দাবি করা হয়েছিল, সেখানে পিয়নকে কেবল ২০ রুপির অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
ক্লার্কের ক্ষেত্রেও বাকি ১০০ রুপির বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। আদালত মনে করে, যেহেতু ঘুষ চাওয়ার প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং পিয়নের বক্তব্য অধিক যুক্তিসঙ্গত ছিল, তাই এসিবি কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলি ভিত্তিহীন। আদালত রায় দেয় যে, শুধুমাত্র ২০ রুপির অর্থ উদ্ধারের ঘটনা প্রসিকিউশনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। উপরন্তু, একজন ক্ষমতাহীন কর্মকর্তার দ্বারা প্রদত্ত আইনি অনুমোদনও অবৈধ ছিল। ফলস্বরূপ, নিম্ন আদালত ও গুজরাট হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট দুই সরকারি কর্মচারীকে খালাস প্রদান করে।।
জ্বালানি সুরক্ষায় বাংলাদেশের পাশে কাতারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী