Published : 22 Aug 2026, 11:16 PM
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এক দুর্বৃত্ত বসতঘরে প্রবেশ করে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে আজ শনিবার দুপুর নাগাদ গোয়ালন্দের জামতলা বাজার এলাকার একটি বাড়িতে। নিহত ফারুক শেখ (৪০) ছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ফরিদপুর থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফারুকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তাঁর বাঁ হাতের কবজি এবং ডান হাতের কনুই মেঝেতে পড়ে ছিল। মুখ ও বুকের বাঁ পাশেও স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফারুকের বাড়িতে আরও দুই ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এবং একটি ঘরে এক নারী ভাড়া থাকেন। ফারুকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা খাতুন জানান, শনিবার দুপুরে জরুরি কাজে বাইরে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে তিনি ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীর লাশ দেখতে পান। তিনি আরও বলেন, ফারুক বহুবিবাহের শিকার হয়েছিলেন এবং তার স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি বিবাহের বিষয়ে অবগত ছিলেন। ঘটনার আগের দিন বাড়িতে ফারুকের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। শনিবার বিকেলে পুলিশ ও সিআইডি ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিনের ঘরটি ঘিরে ফেলে।
বাড়ির উঠানে ফারুকের বাক্প্রতিবন্ধী বাবা খালেক শেখ গভীর শোকে কাতর ছিলেন। অন্য ঘরে জোসনা খাতুন এবং বাড়ির ভাড়াটে নারী অচেতন অবস্থায় ছিলেন। ফারুকের বড় ভাই বারেক শেখ দাবি করেন, খুনিদের কোনো চিহ্ন তারা দেখতে পাননি। তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান যেন দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পুলিশ ও সিআইডি সম্মিলিতভাবে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।।