Published : 23 Aug 2026, 04:17 PM
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন ছাদে শব্দ শোনা যায়, তখন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী সেখানে যান। ছাদের ওপর তিনি দেখেন পরিচিত দুই তরুণ ইয়াবা সেবন করছে। বাধা দেওয়ার পরই ঘটে যায় এক ভয়াবহ কাণ্ড। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই পরিবারের চারজন সদস্যের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার ভয়েই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘણેছিল। এরপর লুটের নাটক সাজিয়ে তারা পালিয়ে যায়। রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রবিবার ভোরে এই চক্রের সদস্যদের ধরা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯), যারা একে অপরের মামাতো ভাই। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন, আর সিদ্ধার্থ পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণশিল্পে কাজ করছেন। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি সেখানে যান।
তাদের বাধা দেওয়ায় তারা তাকে হত্যা করে। এরপর গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মেয়ে এবং ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিয়ম আসামিদের সম্পর্কে অবগত ছিল। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব ছিল বলে জানা যায়, যার কারণে পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যার পরেও ওই বাড়িতে দুজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। তারা গোসল করেন, খেজুর খান এবং ইয়াবা সেবন করে। এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির মতো সাজিয়ে তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করে। তদন্তে আরও নতুন সূত্র পাওয়া গেছে। ঘরে পাওয়া একটি স্বর্ণের চুড়ির আগুনে পরীক্ষা করার আলামত থেকেই তদন্ত ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
পরবর্তীতে সিদ্ধার্থের স্বর্ণশিল্পের অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। লুট করা স্বর্ণালংকার তাদের দেখানো মতে এক পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল, যা প্রমাণ করে তারা আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ, খেজুরের বিচি ও কামড় দেওয়া শসাও উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কমিশনার আরও জানান, হত্যার আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নগরের একটি বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিল এবং পরে মাছুয়াপাড়ায় এসে আবার তা করে। পুলিশ এই চক্রের সরবরাহকারী হিসেবে 'খুশি ওরফে প্রশান্তর' নামও পেয়েছে। বর্তমানে মামলাটি কোতোয়ালি থানায় হত্যা ধারায় নথিভুক্ত এবং দ্রুত তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা চলছে।।
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি: বিমানমন্ত্রীর ঘোষণা