Published : 24 Aug 2026, 04:16 PM
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার উদ্বেগজনকভাবে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়েও এই অগ্রগতি একই ছিল। যদিও পূর্ববর্তী অর্থবছরের জুলাই মাসে এই হার ছিল ১.০৫ শতাংশ, যা কিছুটা ইতিবাচক ছিল। সোমবার প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য সামনে এসেছে। আইএমইডির তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মোট ২ হাজার ১২১ দশমিক ১৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকারি সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নসহ এডিপিতে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ দশমিক ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন এবং আইএমইডির কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, অর্থবছরের শুরুতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সাধারণত প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সময় দেয়, যার কারণে প্রাথমিক অর্থব্যয় কম থাকে। তবে তারা নিশ্চিত করেছেন যে পরবর্তী সময়ে এই ব্যয় অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। সরকার বর্তমানে এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে এবং এর গতি বাড়াতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এডিপির অর্থব্যয় বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ টিবিএস জানিয়েছেন, "এডিপি বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মোট এডিপির প্রায় অর্ধেকই ভৌত অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় হয়। এই কারণে, অর্থবছরের শুরুতেই বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে সব ধরনের জটিলতা দূর করতে এবং বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
" তিনি আরও যোগ করেন যে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রেলওয়ে, সেতু বিভাগ ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রকল্প পরিচালকদের সাথে বৈঠক হয়েছে। এই গতি নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রতি সপ্তাহে প্রকল্প পরিদর্শন করছে। যেসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে, যাতে কোনো কারণে অগ্রগতি থেমে না যায়। একইসাথে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে আইএমইডিও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রতি মাসে কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকল্প পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে, যার ফলে উদ্ভূত সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে।।
মেয়েদের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল: সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর