Published : 24 Aug 2026, 07:17 PM
আমনের মরসুমে সার সরবরাহের অস্থিরতা ও সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ কৃষক–মজুর সংহতি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, এই সংকটের সুযোগে ডিলাররা ভর্তুকিযুক্ত সার কালোবাজারে গোপনে মজুত করে উচ্চ দামে বিক্রি করছে। সরকার নির্ধারিত পরিবেশকেরা (ডিলাররা) এই অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকদের বঞ্চিত করছে। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে কৃষক-মজুর সংহতির সভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ (নীলু) এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম এই অভিযোগ তুলেছেন। তারা ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের এই সংগঠনটির মাধ্যমে সার সরবরাহের ক্ষেত্রে চলমান ত্রুটি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষক-মজুর সংহতি পাঁচটি জরুরি দাবি পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: সার বিতরণ ব্যবস্থার জালিয়াতি ও কৃষকদের হয়রানি বন্ধের জন্য কৃষক প্রতিনিধিদের যুক্ত করে জরুরি সার বণ্টন তদারকি দল গঠন; অব্যবস্থাপনা, কালোবাজারিতে জড়িত ডিলার এবং আমলাতন্ত্রের দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যাপ্ত সারের মজুত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে চীন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি শুরু করা; কৃষকদের জিম্মায় রাখা সিন্ডিকেট সৃষ্টিকারী দুর্নীতিগ্রস্ত ডিলারদের বাতিল করা; খোলাবাজারে সরাসরি সার বিক্রয় পদ্ধতি চালু করা এবং কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন; এবং কৃষকদের নামে থাকা কার্ডের মাধ্যমে সারের ভর্তুকি সরাসরি তাদের হাতে নগদে পরিশোধ করা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সারা দেশে আমন ধানের মরসুমে সার নিয়ে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা ও সংকট। অথচ সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো প্রকৃত সংকট নেই। প্রায় দশ দিন ধরে রাজশাহী, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ বোরো-আমনের প্রধান অঞ্চলগুলো থেকে বিভিন্ন অভিযোগ আসা সত্ত্বেও কৃষিমন্ত্রী ও সচিব বারবার এই দাবি অস্বীকার করে পর্যাপ্ত মজুতের অজুহাত দিয়েছেন।
এরই মধ্যে গতকাল রোববার কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের মজুত ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে চলে যান। যদি পর্যাপ্ত মজুত থাকেও, তবে তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। কৃষক–মজুর সংহতি মনে করে, সারের সরবরাহ নীতিমালার সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে ডিলারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিজেদের অনিয়ম ও মুনাফা বৃদ্ধির স্বার্থে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মজুত গড়ে তোলায় কৃষকেরা কালোবাজারে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ঘটনাগুলোতে ছোটখাটো শাস্তির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।।
দুই ডিআইজি সহ পুলিশ প্রশাসনের ১৭ কর্মকর্তার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস