Published : 26 Aug 2026, 11:16 AM
নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুর জানাজার সময় তাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার চেষ্টা করার সময় পুলিশের দুই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় আহত এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাশার এবং কনস্টেবল রাকিব হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজুল হাসান জানান, ঘটনার পর পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, গতকাল বেলা প্রায় আড়াইটার দিকে শ্যামপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান হোসেন (৯) এবং বাবলু হোসেনের ছেলে লাম হোসেন (৯) বন্ধুদের সাথে নন্দকূজা নদীতে স্নান করতে যান।
প্রবল স্রোতের কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় এক জেলে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। এরপর দুই শিশুর জানাজার সময় গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন সেখানে উপস্থিত হন এবং শিশুদের কাফনের কাপড় সরিয়ে সুরতহাল কাজের উদ্যোগ নেন। এই সময়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমে তর্কাতর্কি এবং পরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে তারা মারধরের শিকার হন। আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন, যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। আহত দুই পুলিশ সদস্য গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় স্থানীয় কিছু বাসিন্দা দ্রুত জানাজার নামাজ শেষ করে সেখান থেকে চলে যান বলে জানিয়েছেন। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানিয়েছেন, তদন্তে দেখা গেছে, এই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের পক্ষ থেকে তদন্তে ত্রুটি ছিল, তাই তাঁদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন: স্থায়ী কমিটি গঠন ও একাধিক বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি