Published : 03 Feb 2026, 07:10 AM
আজ রাতে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। হিজরি ক্যালেন্ডারের শাবান মাসের ১৪তম রাতের এই বিশেষ সময়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন। ‘শবে বরাত’ শব্দের অর্থ হলো ভাগ্যরজনী। হাদিসে এই রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রজনী হিসেবে পরিচিত। নবী করিম (সা.) এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়, এই রাতে আল্লাহ তাআলা রহমত বর্ষণ করেন। আয়েশা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়াগুলোর পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৯) আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, "আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের দিকে তাকাচ্ছেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০) আমাদের সমাজে শবে বরাতের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করে এমন কিছু প্রথা প্রচলিত আছে, যা ইসলামের মূল শিক্ষার পরিপন্থী। এই ইবাদতের রাতকে শুধুমাত্র আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
যেমন- *আতশবাজি ও পটকা ফোটানো:* শবে বরাতে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয় এবং এটি অপচয়। এটি ইবাদতকারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। *অতিরিক্ত আলোকসজ্জা:* উৎসবের আমেজ তৈরি করতে গিয়ে মসজিদ বা ঘরবাড়িতে যে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা করা হয়, অনেক আলেম একে অতিরিক্ত ও অপব্যয় হিসেবে দেখেন। *অহেতুক ঘোরাঘুরি:* ইবাদত বাদ দিয়ে দলবেঁধে রাস্তায় ঘোরাঘুরি বা উচ্চস্বরে শব্দ করা এই রাতের পবিত্রতা নষ্ট করে। *খাদ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি:* শবে বরাত মানেই হালুয়া-রুটির উৎসব নয়। এটি ঐতিহ্যের অংশ হলেও একে ধর্মীয় আবশ্যকতা মনে করা ভুল। মনে রাখতে হবে, এটি মূলত সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার রাত, ভোজন নয়। শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের জীবনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি হয়। এই রাতের আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে- *নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত:* রাতভর আল্লাহর জিকির ও দীর্ঘ সেজদায় আত্মিক শান্তি লাভ করা। *দান-সদকা:* অভাবী ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্যাগের মহিমা প্রকাশ করা।
*কবর জিয়ারত:* প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবরস্থানে যাওয়া, যা আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও হৃদয়ের পবিত্রতা ও একাগ্রতাই এই রাতের মূল উদ্দেশ্য। এই পবিত্র রজনীর মূল লক্ষ্য হলো তওবা ও আত্মশুদ্ধি। যেহেতু বিদ্বেষ পোষণকারীদের এই রাতে ক্ষমা করা হয় না, তাই আমাদের উচিত অন্যের প্রতি হিংসা ত্যাগ করে হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করা। বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও সহমর্মিতার বড় অভাব। শবে বরাতের এই প্রদীপ্ত রাত আমাদের সংকীর্ণতা পরিহার করতে শেখায়। এই পবিত্র রজনীর আলো আমাদের হৃদয়ের অন্ধকার দূর করে দিক। প্রার্থনা করি, এমন এক পৃথিবীর জন্য, যেখানে থাকবে না কোনো বিভেদ, থাকবে কেবল মানবিকতা ও শান্তি। আল্লাহ আমাদের ইবাদত কবুল করুন।।
ডিপিডিসি প্রকল্পের বাইরে কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল আবাস: সুইমিং পুল ও জিমসহ টুইন টাওয়ার নির্মাণ