Published : 20 Feb 2026, 03:06 PM
আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো নক্ষত্রে কি জলের সন্ধান পাওয়া যাবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। সম্প্রতি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এইচডি ১৮১৩২৭ নামক এক তরুণ নক্ষত্রের ধুলিকণাযুক্ত বলয়ে স্ফটিক বরফের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতি, শনি বা প্লুটোর মতো গ্রহে বরফ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু অন্য নক্ষত্রের চারপাশে সরাসরি বরফ খুঁজে পাওয়া আগে সম্ভব হয়নি। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী চেন সি জানান, এই টেলিস্কোপ জলের অস্তিত্বের পাশাপাশি স্ফটিক বরফের স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে। আমাদের সৌরজগতের শনির বলয়ে বা কুইপার বেল্টে যে ধরনের বরফ দেখা যায়, এটি অনেকটা তেমনই। এর আগে ২০০৮ সালে স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ এই নক্ষত্রের বলয়ে বরফের ইঙ্গিত দিলেও, তা নিশ্চিত করার মতো প্রযুক্তি তখন ছিল না।
জেমস ওয়েবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ধুলো ও পাথরের মধ্যে লুকানো ক্ষুদ্র বরফকণাগুলোকেও চিহ্নিত করতে পেরেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নক্ষত্রের বলয়ে বরফ থাকার অর্থ হলো সেখানে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে। চেন সি ব্যাখ্যা করেন, এই বরফযুক্ত উপাদানগুলোই কোটি কোটি বছর পর পাথুরে গ্রহগুলোতে জলের যোগান দেবে—ঠিক যেমন পৃথিবীর জন্মের সময় ধূমকেতু বা গ্রহাণু থেকে জল এসেছিল বলে ধারণা করা হয়। আমাদের ৪৬০ কোটি বছর পুরোনো সূর্যের তুলনায় এইচডি ১৮১৩২৭ নক্ষত্রটি খুবই তরুণ, এর বয়স মাত্র ২ কোটি ৩০ লক্ষ বছর। এই নক্ষত্রটি এখনও বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে, যেখানে পাথর, ধুলো আর বরফের খণ্ডগুলো অনবরত ধাক্কা খাচ্ছে। স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন চেন জানিয়েছেন, এটি এক অত্যন্ত সক্রিয় জগৎ।
বরফের খণ্ডগুলো যখন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন ক্ষুদ্র বরফকণাগুলো ছড়িয়ে পড়ে, যা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ শনাক্ত করেছে। নক্ষত্রের কাছাকাছি অঞ্চলে বরফের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ, কারণ সেখানকার তীব্র অতিবেগুনী রশ্মি বরফকে বাষ্পীভূত করে দেয়। তবে বাইরের দিকে তাপমাত্রা কম থাকায় বরফের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি। সূত্র: আর্থ ডটকম।।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী