Published : 22 Feb 2026, 05:05 PM
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিএনপি’র এক নেতার দায়ের করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (রাজারহাট আমলি আদালত) বিচারক মো. মমতাজুল করিম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো নেতা হাসান জিহাদী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের রাজিকুল ইসলামের পুত্র। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি রাতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরিষাবাড়ী এলাকায় বিএনপি নেতা ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসান জিহাদী ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান, যেখানে টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। শহিদুল ইসলাম পরবর্তীতে রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পুলিশ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। তবে, হাসান জিহাদীর সমর্থকেরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, গত সপ্তাহে উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হওয়ায় হাসান জিহাদী প্রতিবাদ জানান।
এরপর শহিদুল ইসলাম ও তার সঙ্গীরা তাকে মারধর করেন। পরবর্তীতে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজেদের বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে হাসান জিহাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ জানান, নির্বাচন পরবর্তী বিরোধের জের ধরে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসান জিহাদীসহ প্রায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রবিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক তার জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।।