Published : 09 Jul 2026, 04:56 AM
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মধুশিয়া গর্জন বনের অভ্যন্তরে হাতির চলাচলের পথ বা করিডোরকে ব্যাহত করে সড়ক নির্মাণ বন্ধ করার দাবিতে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীরা তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, বনের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও কেন এই প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে? বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে বনাঞ্চল ধ্বংস করে এই কাজ করা হচ্ছে—এই দাবি পরিবেশবাদীরা তুলেছেন। সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনগুলো এই দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এই মানববন্ধনগুলো অনুষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল ও শেরপুরে। এই কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৈতরণী সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্পটিও বাতিল করার দাবি জানানো হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা বসতি স্থাপনের ফলে আমাদের বন ও বন্যপ্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ রেললাইনের জন্য সাত লক্ষ গাছ ও ২৬টি পাহাড় ধ্বংস করতে হয়েছে।
এভাবে মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতির চলাচলের পথ ও প্রজননস্থলগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনন্যা ফারিয়া আরও বলেন, মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ হলে একদিকে যেমন বন ধ্বংস হবে, তেমনি অন্যদিকে হাতির চলাচলের পথ আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের বিকল্প পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তার উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় তাদের আবাসস্থল জুড়ে এই ধরনের রাস্তা তৈরি হলে তা হাতির চলাচলকে আরও সীমিত করবে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মী রাসেল মাহফুজ জোর দিয়ে বলেন, মধুশিয়া গর্জন বনটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এবং এটি মহাবিপন্ন হাতির একটি অপরিহার্য করিডোর। দেশের আইন অনুযায়ী বনভূমিকে বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যায় না। সংবিধানও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই ধরনের প্রকল্প থেকে সরে আসার দাবি জানান তিনি। পরিবেশকর্মী রিতু পারভি প্রশ্ন তোলেন, বিকল্প থাকা সত্ত্বেও বন্যপ্রাণী ও বন ধ্বংস করে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাদের স্বার্থে এই সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে, তার জবাবদিহি প্রয়োজন। এছাড়াও, টাঙ্গাইলের মধুপুর ও শেরপুর জেলায় বনের অভ্যন্তরে সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদে প্রকৃতি ও পরিবেশকর্মীরা মানববন্ধন করেছেন। কক্সবাজারের চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে অনাপত্তি পত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বন বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সড়ক নির্মাণ হলে প্রাকৃতিক বন উজাড় হবে এবং হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিষয়টি আরও পড়ুন: হাতির চলার পথে হবে পাকা সড়ক।