Published : 07 Mar 2026, 09:07 AM
কক্সবাজারের নয়নাভিরাম পাহাড়গুলো যেন আজ লুটেরাদের হাতে নির্বিচারে সোপর্দ। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র পাহাড়খেকো হয়ে উঠেছে, আর তাদের যেন কোনো আইনের ভয় নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকাতেও এই বেপরোয়া কার্যকলাপ চলছে, যা ভাবা যায় না। তারা এতটাই দুঃসাহসী যে, একটি পাহাড়কে সম্পূর্ণ সমতল করে ফেলেছে! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশ্ন হলো, প্রশাসন কি পাহাড়খেকোদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে? প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের জালিয়ারচাং এলাকার ‘আসমানের খুঁটি’ নামে পরিচিত বহু পুরোনো একটি প্রাকৃতিক পাহাড় মাত্র দেড় মাসে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। খননযন্ত্রের আঘাতে পাহাড়ের এক-তৃতীয়াংশ কেটে সাবাড় করে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রশাসনিক উদাসীনতা ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ জানালেও তা গুরুত্ব পায়নি, বরং তারা প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। বন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, পাহাড়টি সংরক্ষিত বনের অংশ নয়, তাই তাদের কিছু করার নেই।
এই বক্তব্য হতাশাজনক। কারণ, আইন স্পষ্ট—ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হলেও কোনো পাহাড় বা টিলা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কাটা যাবে না, এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। পাহাড়ের মালিকানা এখানে মুখ্য নয়, বরং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। আমরা প্রায়ই দেখি, পাহাড় কাটার ঘটনাগুলো প্রকাশ্যেই ঘটছে, কিন্তু প্রশাসনের পদক্ষেপ নিতে অনেক দেরি হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই বা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পরেই কর্তৃপক্ষ ‘তদন্তের’ কথা বলে। কিন্তু ততক্ষণে পাহাড় কেটে ফেলা হয়, গাছপালা উজাড় হয়ে যায়, আর পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুধু শ্রমিক বা খননযন্ত্রের চালক নয়, পাহাড়ের মাটি ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তি এবং যারা এই কাজে মদদ দিচ্ছে—সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, কাটা পাহাড়ের যতটুকু সম্ভব, তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা। বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটার পরে নয়, বরং আগে থেকেই নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু পেকুয়া নয়, পুরো কক্সবাজার জেলায় পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। এখানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বা অবহেলা করেছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।।
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত