Published : 08 Mar 2026, 11:07 PM
গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় নিজের বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি কোটালীপাড়া উপজেলার এক যুবলীগ কর্মী। শেষকৃত্যের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেই তিনি সেখানে পৌঁছান। চঞ্চল মিয়া নামের এই যুবলীগ কর্মী কোটালীপাড়ার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার এক স্থান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চঞ্চল মিয়ার বাবা আবদুল হক গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যান। আজ রবিবার বেলা আড়াইটায় কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার জানায়, চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম আজ বেলা ১১টার দিকে প্যারোলে স্বামীর মুক্তির আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়ে বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি বেলা আড়াইটায় কারাগার থেকে বের হন। এরপর পুলিশি প্রহরায় বেলা তিনটার দিকে তাকে জানাজার স্থানে আনা হয়। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই জানাজা সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপর হাতকড়া লাগানো অবস্থায় বাবার কফিন কাঁধে নিয়ে তিনি চিত্রাপাড়া কবরস্থানের দিকে রওনা হন। দাফন শেষে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে পুনরায় গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর বেলা তিনটার দিকে পুলিশি প্রহরায় জেলা কারাগার থেকে চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন এবং দাফন শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবার দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে চঞ্চল মিয়া বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে বন্দি আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে থাকতে পারিনি।
আমি সত্যিই দুর্ভাগা। এমনকি বাবার জানাজায়ও অংশ নিতে পারলাম না। সবাই আমার বাবাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ তিনি জানাজায় উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি নির্দোষ। পাঁচ মাস ধরে কারাগারে থাকায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে আমি খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।’।
সরকারি দপ্তরগুলোতে নতুন চমক, তিন কর্মকর্তার সচিব পদে পদোন্নতি