Published : 11 Mar 2026, 09:07 PM
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিমের (রিপন) বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জানানো হয়েছে, যেখানে আহ্বায়ক কমিটির ২৬ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আব্দুল মুকিত, মিজানুর রহমান, আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, সুনীল কুমার দাস, মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, মোশারফ হোসেন বাদশা, আসিক মোশারফ, বকশী মিছবাহ উর রহমান, হেলু মিয়া, ফখরুল ইসলাম, স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী, বকশী জুবায়ের আহমদ, মুহিতুর রহমান হেলাল, মনোয়ার আহমেদ রহমান প্রমুখ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আব্দুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাই ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং এখনো তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, তিনি জেলার মিনিবাস টার্মিনাল ব্যক্তিগতভাবে দখল করে নিয়েছেন এবং চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। শুধু তাই নয়, ৫ আগস্টের পর আব্দুর রহিম মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের পালাতে সাহায্য করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাঁর ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। জেলার জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি সম্মান প্রদর্শন করেন না এবং বিভেদ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির সভা আহ্বানের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। বকশী মিছবাহ উর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, বুধবার প্রথম আলোকে জানান, “কমিটিতে ৩৩ জন সদস্য রয়েছেন, এবং আমরা ২৬ জন এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছি। আমার মনে হয়, নতুন কাউকে দায়িত্ব দিলে জেলা বিএনপির জন্য ভালো হবে। দলের হাইকমান্ড অবশ্যই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।” আরেকজন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা প্রথমে ১৯ জন তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। এখন আরো অনেক অভিযোগ আসছে।
এখন প্রায় সবাই তাঁর বিরুদ্ধে। দেখা যাক, দল কী ব্যবস্থা নেয়।” দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম (ময়ূন) ও সদস্যসচিব আব্দুর রহিম বর্তমানে ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে রয়েছেন। আব্দুর রহিমের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে আহ্বায়ক ফয়জুল করিম বলেন, “আমি ওমরাহ করতে এসেছি। লিখিত অভিযোগটি দেখার পর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।”।
সরকারি দপ্তরগুলোতে নতুন চমক, তিন কর্মকর্তার সচিব পদে পদোন্নতি