Published : 12 Mar 2026, 07:06 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা থাকলেও, আমরা বিরোধী দল হিসেবে ১১-দলীয় জোটের সংসদে অংশ নিয়েছি। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নতিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু বিএনপি সরকারি দল হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করেছে জুলাই সনদের মূল চেতনাকে অবজ্ঞা করে। এই আচরণ জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে না।” পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এই মন্তব্য করেন। আজ পঞ্চগড় সরকারি অডিটরিয়ামের মুক্ত মঞ্চে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শেষে সারজিস আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংসদের স্পিকার সরকারি দল থেকে নির্বাচিত হলেও, ডেপুটি স্পিকার হওয়ার কথা বিরোধী দল থেকে। কিন্তু আজ আমরা দেখলাম, ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য। এমনকি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন স্বৈরাচারী শাসনের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রপতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। এত দিন পর সেই একই স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি দ্বারা শপথ নিয়ে বিএনপি বা নতুন সরকার তাদের কার্যক্রম শুরু করলো। তারা যেন অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের লেজ ধরে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে, যা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে।” সারজিস আলম বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা হলো, আমরা শুধু বিরোধী দল নই, বরং বাংলাদেশের জনগণ, এমনকি বিএনপির অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দিয়েছেন।
এর অর্থ হলো, জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মানে হলো, জরুরি অবস্থার সময়কার কালো আইন সংস্কার করতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করতে হবে। যদি বিএনপি এবং এই সরকার এই বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জনগণের বিপক্ষে রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তারা টিকে থাকতে পারবে না। সংসদ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না। যদি কোনো দল দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় এবং ক্ষমতার লোভে স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ এবং আমরা, বিরোধী দল, সকলে মিলে তাদের রুখে দাঁড়াবো।”।