Published : 07 Jun 2026, 12:11 PM
রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনায়, আলোচিত শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্ন্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এই রায় ঘোষণার পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং স্ত্রীর জন্য দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডও ধার্য করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে, এই মামলার বিচার চলাকালীন, আসামি স্বপ্ন্না খাতুনকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। এরপর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত হন। শুরুতে তাদের হাজতখানায় রাখা হলেও, পরবর্তীতে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তাদের এজলাসে ওঠানো হয়।
এই রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল, যেখানে আসামিপক্ষ প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্ত্রীর জন্য লঘুদণ্ডের আবেদন জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে, আসামি স্বপ্ন্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটের এক কক্ষে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজার সময় তার পরিবারের সদস্যরা আসামির কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেখানে তারা দেখতে পান আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং তার মাথা একটি বড় বালতির মধ্যে রাখা। জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্ন্না আক্তার স্বীকার করেন যে তার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্ন্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে সোহেল রানা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার হন। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং একইসঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্ন্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুভূত তীব্র কম্পন, রাজধানীসহ এলাকা কাঁপল