Published : 21 Mar 2026, 11:06 AM
দেশের দক্ষিণ প্রান্তের একমাত্র স্থলবন্দর টেকনাফ আজ যেন এক নিস্তব্ধ জনপদ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছর ধরে এই বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। একসময় যে বন্দরটি পণ্য বোঝাই নৌকা, ট্রাক ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকত, সেখানে আজ শুধুই শূন্যতা। এই স্থবিরতা শুধু বাণিজ্যিক ক্ষতি নয়, বরং সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতির জন্যও এক অশনি সংকেত। টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় অনেক ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকার পণ্য মিয়ানমারে আটকে আছে, যার মধ্যে পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন। অন্যদিকে, বন্দরকেন্দ্রিক প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এখন দিশেহারা, কাজ হারিয়ে শ্রমিকদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।
শুধু তাই নয়, প্রতিদিন প্রায় চার কোটি টাকা করে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, যা বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য এই ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বৈধ বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান থামেনি। নাফ নদী ও সীমান্তের ৩৩টির বেশি পয়েন্ট দিয়ে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল পাচার হচ্ছে, একই সাথে ওপার থেকে আসছে ইয়াবা, আইসসহ প্রাণঘাতী অস্ত্রের চালান। বৈধ বাণিজ্য বন্ধের সুযোগে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের অভিযান ও মাদকের চালান জব্দ করার খবরই এর প্রমাণ। স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের পথ খুঁজতে হবে। জেলা প্রশাসক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বাণিজ্য চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সীমান্ত চোরাচালান বন্ধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বৈধ বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়া। আমাদের মনে হয়, শুধু বিজিবি বা কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি দিয়ে সীমান্ত অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি না সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও বৈধ আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। টেকনাফ স্থলবন্দরকে সচল করা মানে শুধু রাজস্ব আদায় নয়, বরং একটি সীমান্ত অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং হাজার হাজার মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া। টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী