Published : 29 Mar 2026, 11:06 AM
দক্ষিণ আফ্রিকার গান্সবাই উপকূলের কাছে পোর্ট ও স্টারবোর্ড নামের দুটি ওর্কা তিমি নিয়ে সমুদ্রের জগতে রীতিমতো আতঙ্ক! এরা গ্রেট হোয়াইট শার্কের মতো ভয়ংকর শিকারি মাছকে শিকার করে সাবাড় করে দেয়। এদের শিকারের কৌশল এতটাই নিখুঁত যে বিজ্ঞানীরা প্রথমে ভেবেছিলেন, এই তিমি যুগলেই দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে সাদা হাঙরের সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ। কিন্তু সম্প্রতি ‘এন্ডেঞ্জার্ড স্পিসিস রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণা অন্য চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওর্কার চেয়েও ভয়ংকর এক শিকারির কারণে হাঙররা তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। আর সেই শিকারি হলো মানুষ! বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মানুষের হাতেই হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই ঘাতক তিমিগুলো শিকারের জন্য ইকোলোকেশন ব্যবহার করে— অনেকটা আলট্রাসাউন্ডের মতো—যা দিয়ে তারা হাঙরের শরীরের ভেতরের কলিজার অবস্থান pinpoint করে ফেলে।
হাঙরের কলিজা লিপিড বা চর্বিতে পরিপূর্ণ, যা তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে শক্তি যোগায়। ওর্কারা প্রায় সার্জনের মতো নিখুঁতভাবে হাঙরের শরীর থেকে শুধু কলিজা বের করে নেয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে ১১টি হাঙর ওর্কার শিকার হয়েছে। এমনকি পোর্ট ও স্টারবোর্ড একদিনে ১৭টি হাঙর মেরে ফেলারও নজির স্থাপন করেছে। তবে গবেষণার প্রধান লেখক এবং ওশেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী এনরিকো জেনারি জানিয়েছেন, সংখ্যাগত হিসাবে দেখলে মানুষের হাতে হাঙর নিধনের হার ওর্কার চেয়ে অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ওর্কার শিকার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
কিন্তু মানুষের দ্বারা হাঙর নিধন সরকারি নীতিমালার অধীন। এই লাগামহীন নিধন হাঙরের সংখ্যাবৃদ্ধি আটকে দিচ্ছে এবং তাদের বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা হয়তো প্রথম দেশ হিসেবে হাঙর সংরক্ষণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা প্রথম দেশ হিসেবে এই প্রজাতিকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার লজ্জাজনক খেতাব পেতে পারে। উৎস: সায়েন্স অ্যালার্ট।।
কাপ্তাইয়ের জেলেদের জন্য সুখবর, কৃষি কার্ডে সহায়তা পাবেন প্রায় ২৭ হাজার পরিবার