Published : 05 Apr 2026, 01:08 AM
বসন্তের বিদায় বেলায়, দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এক মনোমুগ্ধকর বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে। গান ও নৃত্যের মাধ্যমে তারা উদযাপন করে বসন্তের আগমন। এই উৎসবটি উৎসর্গ করা হয় ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তী সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ সন্জীদা খাতুনের স্মৃতির প্রতি।সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে ‘আমার বনে বনে ধরল মুকুল’ গানের সাথে এক নান্দনিক দলীয় নৃত্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর বহু আগে থেকেই মিলনায়তন দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। অনেকে ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরের বারান্দায় বিশাল স্ক্রিনে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।আজ ছিল সন্জীদা খাতুনের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল এই গুণী মানুষটির জন্ম। তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদ সন্জীদা খাতুনের প্রয়াণের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় জন্মবার্ষিকী। আমরা সকলে একত্রিত হয়ে এই কর্মনিষ্ঠ মানুষটির জীবনকে উদযাপন করছি।
তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সারা জীবন তিনি সংগীতের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তাকে সকলের হৃদয়ে গেঁথে দিতে চেয়েছেন, এবং মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে সচেষ্ট ছিলেন। এর জন্য তিনি নিজেকে সর্বদা প্রস্তুত রেখেছেন।’ সারওয়ার আলী আরও বলেন, ‘সন্জীদা খাতুন এবং তাঁর সঙ্গীরা বছরের পর বছর ধরে ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে এবং জাতিসত্তার পরিচয় বজায় রেখে একটি উদার ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। এক্ষেত্রে সংগীত ছিল তাঁর প্রধান হাতিয়ার। লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং শাহ আবদুল করিমের মতো শিল্পীরাও এমন সমাজ গড়ার প্রেরণা জুগিয়েছেন। তাই সন্জীদা খাতুন নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন উচ্চমানের গবেষক ও দক্ষ সংগঠক। যখন ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত এসেছে, তিনি প্রতিবাদ করেছেন এবং ছায়ানটের মতো একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। রমনার বটমূলে অসাম্প্রদায়িক উৎসব পয়লা বৈশাখের অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি।
পরিপূর্ণ বাঙালি ও মানুষ হওয়ার জন্য তিনি সর্বদা চেষ্টা করেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি তাঁর কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবনকে উদযাপন করার জন্যই আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি।’ এরপর সমবেত কণ্ঠে ‘দোলা লাগিল বাঁশরি বাজিল/ ছায়ানটে বনে বনে’ গানটি পরিবেশিত হয়। সম্মেলক গানের পর শিল্পী ইফফাত আরা ‘নয়ন মেলে দেখি আমায় বাঁধন বেঁধেছে’ গানটি গেয়ে শোনান। এরপর ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনাট্য ‘সুন্দরের উপমা’। এতে ত্রপা মজুমদার ও স্নাতা শাহরিন বাচিক অভিনয় করেন। গীতিনাট্যের গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ন’, ‘ও কি এল’, ‘না, যেয়ো না’, ‘লহো লহো তুলে লহো নীরব বীণাখানি’। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বসন্তের এই সুর ও ছন্দময় উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।।