Published : 14 Apr 2026, 05:08 PM
পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন নামে উৎসব পালন করে। মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই’ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আজ খাগড়াছড়ির পানখাইয়া পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয় মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব। এই উৎসবে মারমা সম্প্রদায়ের মানুষজন একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করতে জলের ধারা বারেবারেই ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন।সকাল থেকেই পানখাইয়া পাড়া এলাকায় মাইকে বাজতে থাকে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান। সব বয়সের মানুষ গানের তালে নেচে-গেয়ে উৎসবে মাতিয়ে তোলে। উৎসবে মারমা তরুণ-তরুণীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে একে অপরের উপর জল ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করে। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সেনাবাহিনীর কমান্ডার এ কে এম ওবায়দুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন। এর আগে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সূচনা করেন। মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
শোভাযাত্রাটি পানখাইয়াপাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদের মাঠ থেকে শুরু হয়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। মারমা নারী-পুরুষেরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।মারমারা ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’, চাকমারা ‘বিজু’ নামের ভিন্ন ভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে বর্ষবরণ ও বিদায় জানায়। এছাড়াও, তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিশু’, অহমিয়ারা ‘বিহু’ এবং চাক, ম্রো, বম, খুমিরা ‘চাংক্রান’ নামের উৎসবে এই দিনটি পালন করে।রাঙামাটিতেও উৎসবমুখর পরিবেশে পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসব চলছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ সকাল আটটায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বেলুন উড়িয়ে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সেখানে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন।আজ সকাল নয়টায় রাঙামাটির রাজবন বিহারের মাঠ প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ উপলক্ষে একটি বিশেষ ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিহারে প্রার্থনা করা হয়। রাজবনবিহারের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বিজয় গিরি চাকমা পঞ্চশীল প্রার্থনা পরিচালনা করেন। এরপর মৈত্রী ভাবনা ও পরিত্রাণ সূত্র পাঠ করা হয়। পরে, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দান, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান এবং বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকা উৎসর্গ করা হয়।অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পাহাড়ের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল এবং বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসবে।।
ছয় দিনের আন্তর্জাতিক সফরের পর দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন প্রধানমন্ত্রী