Published : 20 Apr 2026, 05:08 AM
সিডনি অপেরা হাউসের অনুষ্ঠানে পা রাখতেই একরাশ পরিচিত সুর যেন হৃদয় ছুঁয়ে গেল। মনে পড়ে গেল ফেলে আসা দিনের শিল্পকলা একাডেমি আর টিএসসি-র স্মৃতিগুলো—ঢোল, খোল, করতালের ঝংকার, আর নূপুরের মিষ্টি আওয়াজ। বাইরে প্রশান্ত মহাসাগরের বিশালতা, আর ভেতরে এক টুকরো বাংলাদেশ। গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্বখ্যাত এই স্থাপত্যের মঞ্চে প্রথমবারের মতো পালিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘বৈশাখী পরব’। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এক বার্তায় প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘এই বহুত্বই আমাদের দেশের আসল শক্তি।’ নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনস প্রথাগত নিয়ম ভেঙে সাধারণ দর্শকদের সাথে মিশে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রবাসী বাঙালিদের সাথে ছবি তোলেন, গল্প করেন—তাঁর আন্তরিকতায় মুগ্ধ সবাই। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘বাঙালিরা এখন সিডনির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপেরা হাউসের এই আয়োজন তাদের সৃজনশীলতা আর একতার প্রতীক।
’ অপেরা হাউস চত্বরে পতাকা আর রঙিন ব্যানার নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়, যা দেখে বিদেশি পর্যটকেরা করতালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। উৎসবে ছিল বাংলার চিরায়ত ধ্রুপদি ও লোকনৃত্য, আর কালজয়ী বাংলা গান। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আর লোকগানের সুরে শিল্পীরা দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন—‘এসো হে বৈশাখ’। ‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ অথবা ‘হারানো দিনের কথা মনে পড়ে যায়’—এসব জনপ্রিয় গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও ‘রেললাইন বহে সমান্তরাল’, নজরুলগীতি ‘আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। আয়োজক আবু রেজা আরেফিন বলেন, ‘বিশ্বের বুকে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরাই ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিহির রায় মনে করেন, বিশ্ব মঞ্চে বাংলা নববর্ষের এই উদযাপন একটি গর্বের বিষয়। প্রবাসী মাবরুকা রহমান এই সাফল্যকে বাঙালিদের জন্য মূলধারার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন।
আরও পড়ুনসিডনি অপেরা হাউসে রফিক আজমের স্থাপত্য নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ১৪ মার্চ ২০২৬-এ আসাদ শামস ও রোকসানা হোসেন জেবার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে গান করেন নাবিলা আফ্রিদি, লুবাবা ইসলাম, অমিয়া মতিন, মেহেদী হাসান, মামুন হাসান খান, রাশনান জামান ও নিশাত সিদ্দিকী। নৃত্য পরিবেশন করেন শ্রেয়সী দাস, অঙ্কিতা রায়, ঐশিতা রায়, স্বাগতা চ্যাটার্জী, দেবযানী পাল ও পৌলোমী পান্ডা। কবিতা আবৃত্তি করেন মলয় বিশ্বাস, শ্রুতিনাটকে অংশ নেন নুসরাত জাহান ও নাবিলা আফ্রিদি। যন্ত্রসংগীতের দায়িত্বে ছিলেন অভিজিৎ দান (তবলা), সোহেল খান (গিটার), রাশনান জামান (কি-বোর্ড), সাবিন ঘিসিং (বাঁশি) ও সৃজিত দান (শব্দ নিয়ন্ত্রণ)। জন্মভূমি মিডিয়া, বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব ও বাংলাদেশ প্রেস মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ক্লাবের এই যৌথ উদ্যোগে প্রমাণিত হলো—দূর দেশেও বাঙালির শিকড় আজও অটুট।।