Published : 23 Apr 2026, 05:05 PM
পোল্যান্ডের স্তাজনিয়া গুহায় প্রাপ্ত প্রায় ৮০ হাজার বছর আগের এক নিয়ানডারথাল দাঁতের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য উদঘাটন করেছেন। ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত গবেষণা দল এই আবিষ্কার করেছে। তাঁদের মতে, এই বিশেষ নিয়ানডারথাল গোষ্ঠীটি ককেশাস অঞ্চলের প্রাচীন মানুষের সঙ্গে জিনগতভাবে গভীরভাবে সম্পর্কিত ছিল। অত্যাধুনিক প্যালিওজেনোমিক পদ্ধতি ব্যবহার করে দাঁতের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, ইউরেশিয়ার বিশাল এলাকাজুড়ে নিয়ানডারথালরা বিচরণ করত এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান ছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা নিয়ানডারথালদের অভিবাসন পথ সম্পর্কে নতুন আলোকপাত করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইউরোপের নিয়ানডারথালরা কোনো বিচ্ছিন্ন জাতি ছিল না। স্তাজনিয়া গুহার বাসিন্দা এবং ককেশাস অঞ্চলের নিয়ানডারথালদের মধ্যে জিনগত মিল পাওয়া গেছে। তাঁদের ধারণা, বরফ যুগের কঠিন পরিস্থিতিতে খাদ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে নিয়ানডারথালরা ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করত। এটি প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে যে, নিয়ানডারথালরা কোনো নির্দিষ্ট গুহায় স্থায়ীভাবে বসবাস করত। প্রকৃতপক্ষে, তারা ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম।
স্তাজনিয়া গুহার এই তথ্যগুলো মানুষের বিবর্তন যে সরল পথে হয়নি, তা স্পষ্ট করে। নতুন এই তথ্য বন্য পরিবেশে নিয়ানডারথালদের টিকে থাকার সংগ্রাম এবং তাদের অভিবাসনের ধরণ সম্পর্কে অভূতপূর্ব ধারণা দিচ্ছে। ইতালির বোলগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রিয়া পিচিন, জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ইভল্যুশনিকার অ্যানথ্রোপলজির বিজ্ঞানী মাতেজা হাজডিনজাকসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী