Published : 26 Apr 2026, 05:07 PM
বাড্ডা থানায় উদ্ধার হলো নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ। আজ সকাল আটটার দিকে বাড্ডার নিজ বাসা থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মিমো সাধারণত দরজা খোলা রেখেই ঘুমাতেন। আজ ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।’ ১২ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করেছে বাড্ডা থানা-পুলিশ।
বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, গতকাল রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সাথে প্রায় ছয় মিনিট কথা বলেছিলেন মিমো। সুদীপ তাঁর কল হিস্টরি মুছে ফেলেছেন। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হচ্ছে, এই ঘটনার সাথে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাই তাঁকে আটক করা হয়েছে। মিমোর পরিবার এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে বাড্ডা থানায় মামলা করেছে। মিমোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক। শোকবার্তায় তামান্না হক লিখেছেন, ‘এমন একটি মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী শোকে মুহিত। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।
’ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, মুনিরা মাহজাবিন একটি চিরকুটে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে গেছেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থেকো, স্যারের দেওয়া উপহারগুলো ফেরত দিও।’ এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিরকুটে আমাদের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং মুনিরা মাহজাবিনের সহপাঠী উম্মে হানি- এই দুজনের নাম পাওয়া গেছে। বিস্তারিত ঘটনা সম্পর্কে আমরা আজ জানতে পেরেছি।’ নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত মিমোকে প্রায়ই নির্দেশনা দিতে দেখা যেত। তাঁর মৃত্যু নাট্যঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এনেছে। নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার লিখেছেন, ‘আহারে মিমো!’।