Published : 29 Apr 2026, 07:10 AM
ফুটবল খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে রাঙানো এক অবিশ্বাস্য রাত! প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে যেন রূপকথার জন্ম হলো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মহারণ ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। ৯ গোলের এক রোমাঞ্চকর ‘যুদ্ধ’ সাক্ষী থাকলো বিশ্ব, যেখানে বায়ার্নকে ৫-৪ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস এনরিকের দল ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল। আগামী বুধবার মিউনিখে অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগ। আরও পড়ুনসব স্বপ্ন সত্যি করে ম্যান সিটি ছাড়ছেন স্টোনস৭ ঘণ্টা আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এর আগে কখনো এক ম্যাচে ৯ গোলের দেখা পাওয়া যায়নি। দর্শকরা যেন একইসাথে দুটি ম্যাচ উপভোগ করলেন! স্কোরলাইন দেখলে মনে হবে, এটি দুটি লেগ মিলিয়ে অ্যাগ্রিগেট স্কোর! বহু বছর ধরে প্রচলিত ‘পজেশন ফুটবল’ বা বল দখলে রাখার কৌশলকে এদিন দুই দলই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার মন্ত্রে মেতে উঠলো। আর ফুটবল যেন তার আপন রূপ ফিরে পেল। ম্যাচ শুরুর আগে পিএসজি সমর্থকেরা গ্যালারিতে বিশাল এক ব্যানার (টিফো) প্রদর্শন করেন, যেখানে ফরাসি সেনাবাহিনী জার্মান বাহিনীকে পরাস্ত করছে – এমন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। মাঠের লড়াইও সেই ঝাঁঝের সাথে শুরু হয়। বায়ার্ন শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। উইলিয়ান পাচো লুইস দিয়াজকে বক্সে ফাউল করেন।
হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে গোল করে সাফোনোভকে পরাস্ত করেন। এটি চলতি আসরে তাঁর ১৩তম গোল, যা তাঁকে এমবাপ্পের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। ২৪ মিনিটে পিএসজি সমতায় ফেরে। খিচা কাভারাস্কেইয়া দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করেন, যা প্যারিসের দর্শকদের আনন্দিত করে তোলে। কিন্তু রোমাঞ্চের শুরু তো এখানেই। ৩১ মিনিটে জোয়াও নেভেসের হেডে পিএসজি এগিয়ে যায়। তবে এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪০ মিনিটে মাইকেল অলিসে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান। তাঁর ড্রিবলিং দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করে পিএসজিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন উসমান দেম্বেলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মনে হচ্ছিল বায়ার্ন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। ৫৬ মিনিটে কাভারাস্কেইয়া নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন।
এর দুই মিনিট পরই আলফনসো ডেভিসের হ্যান্ডবল থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে উসমান দেম্বেলে গোল করেন। পিএসজি ৫-২ গোলে এগিয়ে যায়। বায়ার্নকে তখন ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। কিন্তু বায়ার্ন তো বায়ার্নই! ৫-২ স্কোরলাইন থেকে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে তারা ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করে ফেলে। ৬৫ মিনিটে দায়ো উপামেকানোর হেডে গোল এবং ৬৮ মিনিটে হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত পাসে লুইস দিয়াজ ব্যবধান কমিয়ে আনেন। শেষ দিকে স্কোরলাইন ৫-৫ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য পিএসজির সহায় ছিল। রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজান, গ্যালারিতে করতালির বন্যা বয়ে যায়। পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে দুই দলকেই অভিবাদন জানায়। ৯ গোলের এই মহাকাব্যে শেষ পর্যন্ত হয়তো জয়ী দল হিসেবে পিএসজির নামটাই লেখা থাকবে, কিন্তু এই ম্যাচে জিতেছে তো আসলে ফুটবল। এমন এক ম্যাচ, যার গল্প অনেক অনেক দিন রূপকথার মতো শোনানো হবে। আরও পড়ুনঅনিশ্চয়তায় জিদানের ছেলে, আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা৯ ঘণ্টা আগে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাশেদ আল তিতুমীর