Published : 30 Apr 2026, 07:07 PM
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্প্রতি ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে এই ইউরেনিয়াম শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস নয়, বরং আমাদের গ্রহের জন্মের ইতিহাসেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৯ শতাংশ আসে ইউরেনিয়াম থেকে, কিন্তু পৃথিবীর বিবর্তনে এর অবদান আরও বিশাল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রায় ৬০০ কোটি বছর আগে কোনো মহাজাগতিক সুপারনোভা বা তারার প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ইউরেনিয়ামের সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ কেউ মনে করেন, দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষের ফলেও এই ভারী মৌল তৈরি হতে পারে। মহাজাগতিক রসায়নবিদদের মতে, ইউরেনিয়াম তৈরির জন্য প্রচুর নিউট্রন কণার প্রয়োজন। যখন কোনো বিশাল নক্ষত্রের জীবন শেষ হয় এবং সেটি ধসে পড়ে, তখন সেখানে নিউট্রনের তীব্র স্রোত তৈরি হয়। এই নিউট্রনগুলো অন্যান্য নিউক্লিয়াসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউরেনিয়ামের মতো ভারী মৌল তৈরি করে।
আরেকটি রোমাঞ্চকর তত্ত্ব বলছে, নিউট্রন নক্ষত্রগুলো অত্যন্ত ঘন। এর সামান্য একটু উপাদানের ওজন প্রায় ৫০০ কোটি টন! যখন দুটি নিউট্রন নক্ষত্র কাছাকাছি আসে এবং মহাকর্ষীয় টানে ধাক্কা খায়, তখন সোনা, প্লাটিনাম ও ইউরেনিয়ামের মতো ভারী ধাতু তৈরি হয়। আমাদের পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৫ কোটি বছর। বিজ্ঞানীরা ইউরেনিয়াম থেকে সিসায় রূপান্তরের তেজস্ক্রিয় বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এই বয়স নির্ধারণ করেছেন। হিসাব করে দেখা গেছে, যদি সৌরজগতের সমস্ত ইউরেনিয়াম একটিমাত্র সুপারনোভা থেকে এসে থাকে, তবে সেই ঘটনা প্রায় ৬৫০ কোটি বছর আগে ঘটেছিল। তবে বাস্তবে, এটি কোনো একক ঘটনা ছিল না। প্রায় ৬০০ কোটি থেকে ২০ কোটি বছর আগে বিভিন্ন তারার বিস্ফোরণে তৈরি হওয়া উপাদান দিয়ে আমাদের পৃথিবী ও সৌরজগৎ গঠিত হয়েছে। আমাদের পৃথিবীর অভ্যন্তর এখনো উত্তপ্ত, যার প্রধান কারণ ইউরেনিয়াম।
পৃথিবীর অভ্যন্তরে উৎপন্ন তাপের প্রায় অর্ধেক আসে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ও পটাশিয়ামের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে। এই তাপ পৃথিবীর ম্যান্টলে পরিচলন স্রোত তৈরি করে, যা টেকটোনিক প্লেটগুলোকে সচল রাখে। অর্থাৎ, পাহাড়-পর্বত এবং মহাদেশগুলোর যে পরিবর্তন আমরা দেখি, তার পেছনেও রয়েছে ইউরেনিয়ামের অবদান। প্রায় ২৫০ কোটি বছর আগে, যখন পৃথিবীতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে, তখন ইউরেনিয়ামের আচরণে পরিবর্তন আসে। অক্সিজেনের কারণে ইউরেনিয়াম দ্রবণীয় হয়ে পানিতে মিশে যায় এবং ভূ-ত্বকের বিভিন্ন স্থানে জমা হয়ে খনি তৈরি করে। সূত্র: ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার।।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী