Published : 02 May 2026, 03:08 AM
মহান মে দিবসের প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেছেন, শ্রমিকদের বহু বছরের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল এই দিনটি, কিন্তু বাস্তবে তাদের অধিকারের অনেক প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মুক্তমঞ্চে বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন। আলোচনায় অধ্যাপক আকাশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈষম্য ও শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় ছোট উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে শ্রমিক হয়ে যাচ্ছে, ফলে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন, একসময় পাকিস্তানে যেমন ‘২২ পরিবার’ অর্থনীতির চালিকাশক্তি ছিল, তেমনই বাংলাদেশেও বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলো সম্পদশালী হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে এই অর্থনীতিবিদ ‘লোভী পুঁজিপতি’ শ্রেণির সমালোচনা করেন এবং বলেন, অনেকেই উৎপাদনে বিনিয়োগ না করে অর্থ পাচারে লিপ্ত, যার কারণে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে এবং শ্রমিকদের দর কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বড় ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্য ও অর্থ পাচারের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শ্রমিকদের শোষণ প্রসঙ্গে এম এম আকাশ বলেন, একসময় শ্রমিকদের দিন-রাত মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হতো, এবং ন্যূনতম মজুরি এমনভাবে নির্ধারণ করা হতো যাতে তারা শুধু জীবন ধারণ করতে পারে।
বর্তমানেও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে শ্রমিকরা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। শ্রম আইন ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশে শ্রমিকদের কিছু দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন শ্রম আইনেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। চীন, ভিয়েতনাম ও কিউবার উদাহরণ টেনে অধ্যাপক আকাশ বলেন, এই দেশগুলোতে ন্যূনতম আয় এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে কাজের সময় কমিয়ে মানবিক উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিয়েছে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে দরিদ্রদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদানের ওপর জোর দিয়ে এম এম আকাশ বলেন, মানসিক ও শারীরিক উভয় শ্রমিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এই যৌথ মালিকানা ও মানবিক বণ্টনের সমাজ গড়তে পারলেই মে দিবসের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।
সংগঠনের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান সভার সভাপতিত্ব করেন। ঝর্ণা আলমগীর ও আলেকজেন্ডার আজাদের সঞ্চালনায় ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, আনন্দন, ভিন্নধারা, উঠোন, সুরতাল, সমস্বর, পঞ্চভাস্কর ও সপ্তরেখা শিল্পগোষ্ঠী দলীয় সংগীত পরিবেশন করে। নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি, মাহফুজা আক্তার মিরা ও দিলসাদ জাহান পিউলী একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সুকান্ত ভট্টাচার্য বিদ্রোহের গান এবং ফকির সিরাজ, সমর বড়ুয়া, প্রলয় সাহা, এস এম মেজবাহ, আবিদা রহমান সেতু ও অলোক দাশগুপ্ত একক সংগীত পরিবেশন করেন। গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা শিশু-কিশোরদের মধ্যে আনন্দ নিয়ে অংশ নেয়।।
গাজীপুরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: মা ও শিশুসহ ৫ প্রাণ কেড়ে নিল এক নিষ্ঠুর পিতা!