Published : 10 May 2026, 02:08 AM
বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের অক্লান্ত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। গতকাল শনিবার (৯ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চারদিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই কথা বলেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চিফ হুইপ বলেন, 'রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাদের কাছে কেবল সাহিত্য নয়, এটি মুক্তির মন্ত্র, সাহসের প্রতীক। তাঁর প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়েই বাংলাদেশের জনগণ বিগত ১৭ বছর ধরে কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছে এবং গণতন্ত্রের আলো দেখেছে।' রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত পঙক্তির উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, '“সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে আমি ভালোবাসিলাম” – এই কঠিন সত্যকে ভালোবেসেই বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। এই পথ সহজ ছিল না, কিন্তু জনগণের অদম্য সাহস ও ভালোবাসাই তাঁদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'এই পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে এক অমূল্য সম্পদ। আমাদের দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে হেঁটেছে, কঠিন বাস্তবতাকে জয় করেছে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করেছে।
যারা বছরের পর বছর ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁরাও এই কঠিন সত্যকে আপন করে নিয়ে নতুন শক্তি খুঁজে পেয়েছেন।' চিফ হুইপ বলেন, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সময় থেকে অনেক দূরদর্শী ছিলেন। তাঁর “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা” কবিতা আজও আমাদের সমাজকে নতুন পথে চলতে উৎসাহিত করে। যখনই সমাজে স্থবিরতা আসে, এই নবীনরাই যেন সমাজকে জাগিয়ে তোলে এবং রক্ষা করে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান আমাদের সাহস জুগিয়েছে।' মো. নূরুল ইসলাম বলেন, 'রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য, সংগীত, নাটক, গল্প—সব ক্ষেত্রেই ছিলেন একজন অগ্রগামী। তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের মাধুর্য আমাদের মন জয় করে, যা আমাদের সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বাংলা ভাষার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।' তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, 'রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করে যেন এই বাংলাদেশকে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার দিক থেকে আরও উন্নত করে তোলে।
হুমায়ূন আহমেদের মতো গুণী সাহিত্যিক বা কবির অভাব আমরা এখনও অনুভব করি। আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি বিকশিত হতে পারে। বর্তমানে আমরা অনেক বিদেশি সংস্কৃতি গ্রহণ করছি, তবে আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে। একটি এমন সমাজ গড়তে হবে, যেখানে মাদক, অপশক্তি ও স্বৈরাচার থাকবে না, মানুষ সুন্দর জীবনযাপন করবে এবং নতুন দিনের আলো দেখবে।' অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। এ সময় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।।
জনগণ চায় নির্ভয় রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে না গুম-অপহরণের ছায়া: প্রধানমন্ত্রী