Published : 17 May 2026, 12:26 AM
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপর তাদের ‘কোনো ভরসা নেই’। তিনি জানান, ওয়াশিংটন যদি চুক্তি পালনে আন্তরিক হয়, তাহলেই তেহরান আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি। শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এই কথা জানান। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরবণের আলোচনা আপাতত থমকে আছে। আরাগচি বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ জড়িত নয়, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। ব্রিকস জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করছেন আরাগচি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের পরিস্থিতি বর্তমানে ‘অত্যন্ত নাজুক’। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি উল্লেখ করেন, তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে বলেছেন, ‘ইরান সবসময় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু হয়। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় সকল নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যদিও গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, কিন্তু একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এখনও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলস্বরূপ, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্বৈত নীতি ও পরস্পরবিরোধী বার্তার’ কারণে তেহরানের মনে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, তবে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মাসে তেহরানের সঙ্গে দুইবার আলোচনা শুরু হলেও, প্রতিবারই ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেই আলোচনা ভেস্তে দিয়েছে। ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে আবারও যুদ্ধে ফিরে যেতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানান আরাগচি। দুই পক্ষের আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ। আরাগচির এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের প্রতি তার ধৈর্য্যের সীমা প্রায় শেষ।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলেও জানান। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান যেকোনো দেশের সহায়তার উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। আরাগচি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা কৌশলগত অংশীদার। আমরা জানি, চীনের উদ্দেশ্য সৎ। তাই কূটনীতিতে তারা যা করবে, আমরা তাকে স্বাগত জানাব।’ আরাগচি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে একটি ভালো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ হবে এবং আমরা সেখানে দ্রুত নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে পারব।’।
সবুজ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার