Published : 24 May 2026, 07:27 PM
দেশের বন্ধ পড়ে থাকা শিল্পগুলোকে পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানিকে উৎসাহিত করা, বেসরকারি খাতের উন্নতি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই তহবিলের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিশেষভাবে বন্ধ কারখানাগুলোকে পুনর্গঠন ও পুনরায় চালু করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে। আজ (২৩ মে) শনিবার ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
গভর্নর বলেন, বড় শিল্পগুলোর জন্য এই ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার সামান্য বেশি হতে পারে। এই তহবিল থেকে বৃহৎ শিল্প, কুটির শিল্প, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং কৃষি খাতকে সহায়তা করা হবে। এই প্যাকেজের মাধ্যমে ২৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এই উদ্যোগের ফলে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ার পাশাপাশি নতুন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হবে, সারাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, দক্ষ কর্মীরা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবে, পরিবেশ-বান্ধব বিনিয়োগ বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এছাড়াও, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।
ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করে ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’কে জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবে। কর্মকর্তা আরও জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং যাদের নিশ্চিত ক্রয়াদেশ আছে, তাদের তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যাংক থেকে বন্ধ ও আংশিক চালু হওয়া কারখানাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত ১,২০০টির বেশি শিল্প ইউনিটকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বড় ঋণগ্রহীতা এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান উভয়ই রয়েছে।।
এডিবি’র ১৪০ কোটি ডলার সহায়তা: বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত